শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

এ যেন বসন্তের দিন

প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
এ যেন বসন্তের দিন

শীত শেষের দিকে, আর মাত্র হাতে গুনা কয়েকদিন পরেই বসন্ত। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বসন্ত যেন একটু আগেই আসলো।
বিভাগটির পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ঘুরে দেখা গেল এমনই চিত্র।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগটির সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব। যেখানে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা এসেছিলো নানা ঢংয়ে নানা সাজে। এ যেন ফাল্গুন আসার আগেই এসে গেছে বসন্ত।

এদিন পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। সকাল সাড়ে নয়টায় বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। র‍্যালিতে বিভাগের ১ম ব্যাচ শুরু করে সর্বশেষ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর চলে ব্যাচভিত্তিক ফটোসেশান। ১ম ব্যাচ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ব্যাচ পর্যন্ত প্রত্যেকেই ক্রমান্বয়ে ফটোসেশান পর্বে অংশগ্রহণ করেন। ফটোসেশান শেষে পরেই শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। বেলা এগারোটায় বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্বের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আখতার। এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, বিভাগটির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং বুদ্ধিজীবী চত্বর সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ব্যানার পোষ্টার শোভা পাচ্ছে একটু পর পর। বুদ্ধিজীবী চত্বরে বসেছে বেশ কয়েকটি দোকান এবং বুথ। যেখানে মিলছে হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে শীতের পিঠা, ফলের রস, রঙ চায়ের দোকানগুলোতে ছিলো শিক্ষার্থীদের ভিড়।

শুধু যে অনুষ্ঠানস্থল সজ্জ্বিত হয়েছে এমনটি নয়। এদিন বসন্তের আগেই বাসন্তী সাজে সেজেছিলো চবির ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীরা। কারও পরনে ছিলো পাঞ্জাবি-পায়জামা কারও পরনে আবার শাড়ি। কেউবা মাথায় গুঁজে দিয়েছেন ফুল কারও বা আবার হাতে শোভা পাচ্ছে ফুলের চুড়ি। সব মিলিয়ে এ এক চোখ ধাঁধানো সাজ। যা বাড়িয়েছে অনুষ্ঠানের আমেজ।

সরজমিনে আরও দেখা যায়, বিভাগটির বেশ কিছু ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আগমণে এ এক মহামিলনে পরিণত হয়েছে। আর সাবেক বর্তমানরা মেতেছেন আড্ডায়। বিশেষ করে সাবেকদের উৎসাহ ছিলো দেখার মতো। আনন্দ, আড্ডা, গল্প আর ছবি তোলার ব্যস্ততা দেখা গেছে এই ক্যাম্পাসের এক সময়কার প্রিয় মুখদের। যাদের কেউ এখন শিক্ষক, কেউ বড় কোন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, আবার কেউ সরকারের বড় কোন আমলা বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তি৷

শুধু যে বিভাগটির শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো তা কিন্তু নয়। মা কিংবা বাবার হাত ধরে এতে এসেছেন ছোট ছোট বাচ্চারা। বাবা-মায়ের ক্যাম্পাসটাকে ওরা নিজের মতো করে নিয়েছে। দু পা মেলে ছোটাছুটি করছে এদিক সেদিক।

এখনও মনে পড়ে সেই ক্লাসে ছোটার দিনগুলো:

কেউ ৫ বছর কেউ ১০ বছর, আবার কারও কারও ক্যাম্পাসে ফিরে আসার সময়টা প্রায় ১৫ বছর পর। তবে আজও তারা ভুলেননি ক্লাসের জন্য ছোটাছুটির সেই দিনগুলোর কথা। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের করিডোরে শীতের সকালে বসে রোদ পোহানো কিংবা ক্লাস পরবর্তী গল্প আড্ডায় মেতে ওঠার সময়গুলো উনারা ভুলে যাননি। অনুষ্ঠানে আসা চবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বেশ কিছু সাবেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের৷ তারা জানিয়েছেন সেই পুরোনো দিনের কথা। অনুষ্ঠানে এক সাথে মিলিত হয়ে উচ্ছ্বাস আনন্দের কথা।

শাহাদাত হোসেন নামে বিভাগটির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক ভালো লাগছে আমাদের এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এসে। অনুষ্ঠানের সুবাদে আজকে অনেক পুরাতন বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। অনেকদিন পর একসাথে বুদ্ধজীবী চত্বরে আড্ডা দিচ্ছি এর থেকে শান্তির আর কি হতে পারে।

নাসরিন তারান্নুম নামে আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, আমার সাথে আমার ছোট্ট মেয়েও এসেছে। ও এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। আসলে অনেক ভালো লাগছে নিজের সন্তানকে নিয়ে নিজের ক্যাম্পাসে এসেছি।

সাইমুল হক নামে বিভাগটির আরেক শিক্ষার্থী নিজেদের সময়কার ক্যাম্পাসের কথা মনে করে বলেন, এখন ক্যাম্পাস অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সময় ছেলেমেয়েরা আরও ঠান্ডা মাথার ছিলো। এখন প্রায় ক্যাম্পাসে সমস্যা হয় বলে শুনি। আমাদের এসব থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তাহলে আমার বিভাগ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে।

সকালের পর্বের পরে বিকেলে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শাহরিয়াজ মোহাম্মদ, চবি
০১৮৩৭২৭০৭৮০

সম্পর্কিত পোস্ট