শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

সৌদি আরবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

দূতাবাসের কার্যালয় প্রধান কাউন্সেলর মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের উপস্থাপনায় দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সক মুক্তিযোদ্ধাদের ও নির্যাতিত মা-বোনদের।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বিক্রমের সামনে টিকতে না পেরে যখন আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তারা বাঙালি জাতিকে মেধাশুন্য করার নীলনকশা প্রণয়ন করে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্বাধীন বাঙালি জাতিকে মেধা-মননহীন করে তুলতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ সমাজে সৃজনশীলতায় অগ্রণী মানুষদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি সহায়তা করেছিল তাদের দোসর এ দেশের রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামের ঘৃণিতরা। তারা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে মেধাহীন পঙ্গু জাতিতে রূপান্তর করতে। যাতে স্বাধীনতা অর্জন করলেও এ জাতি যেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতা বিরোধী গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিচারের আওতায় ১৯৭১ সালের অনেক আলবদর রাজাকার এরই মধ্যে বিচারের আওতায় এসেছে। এসব আলবদর রাজাকারের বিচার হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মা শান্তি পেয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। যে জাতিকে তারা মেধাহীন পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল সে জাতি আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০৪১ সালে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর একটি অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বক্তব্য দেন দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক। সভার শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সব শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট