শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রোববার, ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৩ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ জুলাই ২০২৩ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রোববার, ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ

পবিত্র ঈদের ছুটি শেষে আগামীকাল রোববার (৯ জুলাই) খুলছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। কিছুদিন ধরেই ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২৫ জুন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দীর্ঘ এই সময়ে পরিচ্ছন্নতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ডেঙ্গু মশার বংশ বিস্তারের শঙ্কা আছে। এমন অবস্থায় মধ্যে ভীতি নিয়েই ক্লাসে যাবে শিক্ষার্থীরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে ইতোমধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছুটির শুরুতে একদফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। তখনই ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর এখন স্কুল খোলার বিষয়টি সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভালো করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা রাখছি শনিবারের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস উপযোগী করে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা প্রস্তুত করবেন দায়িত্বশীলরা।

নেহাল আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু ও বন্যার ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘স্টান্ডিং অর্ডার’ (সর্বদা পালনীয়) দেওয়া আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে কর্মচারী, স্কাউটস, বিএনসিসি ও শিক্ষার্থী সমন্বয়ে এক বা একাধিক টিম গঠন করতে হবে। ওই টিম ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চালাবে।

মাউশির মহাপরিচালক আরও বলেন, বিদ্যালয় ও এর আশপাশে স্বচ্ছ পানি জমার স্থান চিহ্নিত করে পরিষ্কার করবে; খোলা পাত্রে জমা পানিতে ডেঙ্গু-মশা ডিম ছাড়ে। তাই বাথরুমের বদনা ও বালতি যাচাই করতে হবে। হাইকমোডে হারপিক ঢেলে ঢাকনা বন্ধ ও প্যানে হারপিক ঢেলে বস্তা বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে হবে, কোনো স্থানে জমাটবদ্ধ পানি থাকলে লার্ভিসাইড স্প্রে এবং পানি নিষ্কাশন করতে হবে।

প্রতিবছর বর্ষাকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরমধ্যে গত বছর মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ২৮১ জন মারা গেছেন।

এ বছর ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। গত মে মাসে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পাঁচ গুণ বেশি। সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন- এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অন্য সব বছরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে বাড়তে পারে মৃত্যুর সংখ্যাও।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১১ হাজার ২৯৮ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৮ জন।

সম্পর্কিত পোস্ট