মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

লিজ নেওয়া জমি দেখিয়ে তিনশ কোটি টাকা ঋণ!

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২ | ১:০১ অপরাহ্ণ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২২ | ১:০১ অপরাহ্ণ
লিজ নেওয়া জমি দেখিয়ে তিনশ কোটি টাকা ঋণ!

২০০৯ সালে প্রবাসে থাকতেই শুরু টাইলস ব্যবসায় হাতেখড়ি। ২০১৪ সালে ফোসান সিরামিক ও হাইটেক সিরামিক লিমিটেড নামে আমদানিতে অধিক মূল্য দেখিয়ে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। ৪টি ব্র্যান্ডের সিরামিকস বা টয়লেট সামগ্রির ব্যবসার আড়ালে প্রতারিত করেছেন শত শত মানুষকে।

এখানেই শেষ নয়, প্রতারণার অর্থ হতে প্রায় ১৩০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। সেটি দেখিয়ে আবার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিয়েছেন তিনশত কোটি টাকার ঋণ। দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৩৯টি অ্যাকাউন্ট ও বিদেশে ৩টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

প্রতারণার মাধ্যমে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শত কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে জিয়াউদ্দীন ওরফে জামানকে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করেছে র‌্যাব।

আটকের পর র‌্যাব বলছে, বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে রয়েছে ১৮টির বেশি মামলা। আটক জিয়া উদ্দিন নিজেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা এমডি হিসেবে দাবি করেন। এ ধরনের তথ্য সম্বলিত ভিজিটিং কার্ডও তৈরি করেছেন। এছাড়াও তার অস্ট্রেলিয়া, চায়না, হংকং, ওমান ও দুবাইয়ে নানাবিধ ব্যবসা রয়েছে বলে ভূয়া প্রচারণা চালান। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে প্রলুব্ধ করে ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে রাজধানীর উত্তরা হতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিয়াউদ্দিন ওরফে জামান (৫৫) আটক করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৭টি চেক বই, ৬ বোতল বিদেশি মদ, ৯৯ হাজার টাকার জালনোট, ৬ হাজার জাল ইউএস ডলার, প্রতারণামূলক কার্যকলাপের জন্য ফোসান সিরামিক প্ল্যান্ট এবং জিয়া টাওয়ারের কাঠামোগত ভবিষ্যত পরিকল্পনা, ওমানে অর্থ পাচারের তথ্যাদি, প্রতারণামূলক কার্যকলাপের জন্য ‘জাপানে তৈরি’ স্টিকার, ৫ ধরনের আইডি এবং বিজনেস কার্ড, নগদ ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ২০০ কোটি টাকা নেওয়ার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র।

খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিয়া ব্যবসায়িক প্রতারণা ও বিভিন্ন বিষয়াদি ও কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট