সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২২ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২২ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের প্রতি আরও নিষেধাজ্ঞার আশা করেছে বাংলাদেশ।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অষ্টম সংলাপে এ কথা জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। স্টেট ডিপার্টমেন্টে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বনি জনকেনসের সঙ্গে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপে বসেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

দিনব্যাপী বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব। বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়াও র‌্যাবের প্রতি নিষেধাজ্ঞা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট বাংলাদেশের দিকে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। এই ঢলে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক দিন বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়।

কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার সাড়ে চার বছর সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি।

যদিও মিয়ানমারে অং সান সু চি’র সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ চুক্তি সই করেছিল। চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের সেই সরকারেও গড়িমসি ছিল। তখন চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনাশাসন আসার পর সেই আলোচনাও বন্ধ হয়ে যায়।

ওয়াশিংটনে অষ্টম সংলাপে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, ‘তাদের আরও শক্তিশালী হয়ে রোহিঙ্গা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলা হয়েছে, যেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

র‌্যাবের প্রতি নিষেধাজ্ঞা এখনই প্রত্যাহার না হলেও গত চার মাসে পরিস্থিতির উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবেই পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান সচিব।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, তৃতীয় স্তরে তারা যে ভার্সনটা দিয়েছে আমরা এখন তা যাচাই বাছাই করে দেখছি। পরবর্তী যে চতুর্থ ধাপ আছে যেটা তাদের দেশ থেকে একটা রিলেশন গিয়ে আমাদের বিধিবিধানগুলো দেখে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

সচিব আরও বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে৷ আর যুক্তরাষ্ট্রের আইনেই র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট