শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

রপ্তানিতে অর্থ পাচার; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া বার্তা

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৩ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৩ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ
রপ্তানিতে অর্থ পাচার; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া বার্তা

আমদানিতে অর্থ পাচার কমেছে। কিন্তু রপ্তানির মাধ্যমে ব্যাপকহারে বেড়েছে অর্থ পাচার। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানির অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের জানান, ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। সে বিষয়টা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি বিপুল অংকের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নিতে বলা হয়।

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো ওভার–ইনভয়েসিং এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো হচ্ছে আন্ডার–ইনভয়েসিং।

মুখপাত্র বলেন, সম্প্রতি আমরা ব্যাংক ঋণের একক সুদের সীমা উঠিয়ে দিয়েছি এবং সেটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সব ব্যাংক। বৈশ্বিক সংকট এখনো বিদ্যমান থাকায় দেশের মূল্যস্ফীতিতে একটি চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট। সব মিলিয়ে আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র বলেন, যেসব ব্যাংক বাফেদা নির্ধারিত রেটের বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। নিশ্চই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমে এলেও ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টস ব্যালেন্স এখনো ঋণাত্মক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দরে ডলার সংগ্রহ প্রতিরোধ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ভূমিকা এবং ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

সম্পর্কিত পোস্ট