শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

মিশিগানে দূতাবাস সচিব লাঞ্ছিত, কনস্যুলার সেবা বন্ধ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২২ | ৬:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২২ | ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
মিশিগানে দূতাবাস সচিব লাঞ্ছিত, কনস্যুলার সেবা বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিল্টন লাঞ্ছিত হয়েছেন। রোববার (২১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ডেট্রুয়েট ডাউনটাউন নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্মারকলিপি গ্রহণ না করায় তার ওপর চড়া হয় ৭-৮ জনের একটি দল। দূতাবাস সচিবকে হেনস্তার ঘটনায় মিশিগানের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হঠাৎ কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সেবাপ্রার্থী। তারা ক্যাম্পে এসে দেখেন, দরজায় তালা ঝুলছে। পরে সেবার বদলে ক্ষুব্ধ মনে ফিরে যান তারা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহজে কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে হ্যামট্রামিকের আমিন রিয়েলেটি অফিসে শুক্রবার থেকে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চার দিনের ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প চালু করেছিল ওয়াসিংট বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কনস্যুলার ক্যাম্পের স্থানীয় আয়োজকরা এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সচিব মিল্টনসহ দূতাবাস কর্মকর্তারা রোববার রাতে ডেট্রুয়েট ডাউনটাউন নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। মিশিগানে স্থায়ী কনস্যুলেট অফিসের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য নদীর পাড়ে যান সাকের উদ্দিন সাদেক, রায়হান আহমেদ, আকিকুল হক শামীম, মুশেদসহ ৭-৮ জনের একটি দল। দূতাবাস সচিব মিল্টন নদীর পাড়ে স্মারকলিপি গ্রহণ করেননি। দূতাবাসের অফিসিয়াল ই-মেইলে পাঠানোর পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তারা। তারা মিল্টনকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধরের জন্য চড়াও হন। এ ঘটনায় ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দূতাবাস সচিবকে হেনস্তার ঘটনায় কমিউনিটির বড় ক্ষতি হয়েছে। ভোগান্তি বেড়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের। দূতাবাস সচিবকে শারীরিক হেনেস্তা করা নিন্দনীয়। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন মিশিগান স্টেট আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ, সেক্রেটারি আবু আহমেদ মুসা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী, সেক্রেটারি সুমন কবির, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আবদুল আহাদ, সেক্রেটারি সৈয়দ মতিউর রহমান শিমু।

এ ব্যাপারে জানতে দূতাবাসের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) আব্দুল হাই মিল্টনের মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় কল দেন। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে তার মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে রোববার রাত আড়াইটায় ফেসবুক লাইভে এসে সাকের উদ্দিন সাদেক বলেন, মিশিগানে একটি স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কনস্যুলেট কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে তার তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। আমাদের কাউন্সিলম্যান নাইম চৌধুরী একজন অন্ধ মহিলা নিয়ে ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকায় সেবা দেওয়া হয়নি। তারা নাকি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া সেবা দেন না। এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার থেকে কোনো অসুস্থ মানুষ, বয়স্ক মানুষ, কোনো প্রতিবন্ধী মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেওয়া হয়নি।

এছাড়া শনিবার বিকেলে কনস্যুলার ক্যাম্পের স্থানীয় আয়োজক দুই গ্রুপের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ই-পাসপোর্ট সেবাদানে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২০-২৫ নেতাকর্মী কনস্যুলার ক্যাম্পে ছুটে যান। তারা ক্যাম্পের নিচ তলায় অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি আব্দুল আহাদকে গালিগালাজ ও ডাকাডাকি করেন। এসময় আহাদ দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের নিরাপদে আশ্রয়ে ছিলেন। পুলিশ এসে উত্তেজিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে দেয়।

সম্পর্কিত পোস্ট