শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

মিরাজ ঝলকে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

প্রকাশ: ৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
মিরাজ ঝলকে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ১৮৭ রান। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু মাঝে পথ হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৩৬ রানে নবম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৫১ রান। এই অবস্থা, এর আগে বাংলাদেশ ম্যাচে জয় পেয়েছে এমন রেকর্ড নেই। পরাজয়ের ক্ষণ গুণতে থাকে সমর্থকেরা।

সে সময় ত্রাতা হিসেবে আবির্ভাব হয় মেহেদী হাসান মিরাজের। বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের বীরত্ব আর মোস্তাফিজুর রহমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে টাইগাররা।

মিরপুরে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশের ১৫তম ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস। পেস-স্পিনের যৌথ আক্রমণে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ গুটিয়ে যায় দুইশর নিচেই। ৪ উইকেট নেন দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা এবাদত হোসেন। আর সাকিব শিকার করেন ৫ ভারতীয় ব্যাটারকে।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রোহিত শর্মাদের ৪১.২ ওভারে ১৮৬ রানে আটকে দেয় টাইগাররা। জবাবে শেষ ‍উইকেটে মিরাজ-মোস্তাফিজের জুটিতে ৪৬ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৭ রান করে বাংলাদেশ।

টসের পর ম্যাচ জিতেও ওয়ানডে অধিনায়কত্বের অভিষেকটা স্মরণীয় হয়ে রইল লিটনের জন্য। ভারতের ইনিংসে বাংলাদেশের সাফল্য আসে ব্যাট হাতে ম্যাচ জয়ের নায়ক মিরাজের হাত ধরে। ডানহাতি এই অফস্পিনারকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন ওপেনার শিখন ধাওয়ান (৭)।

বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাকিব। ৮ মাসেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে খেলতে নেতে আবারও নিজের জাত চেনান তিনি। পরপর দুই বলে সাকিবের স্পিন ফাঁদে কাটা পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা (২৭) এবং বিরাট কোহলি (৯)।

শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন লোকেশ রাহুল। তবে শ্রেয়াসকে (২৪) ফিরিয়ে দুইজনের ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। পঞ্চম উইকেটে ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে ৬০ রান যোগ করেন রাহুল। নতুন স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে আবারও ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন সাকিব।

১৯ রান করা সুন্দরের পর শার্দুল ঠাকুর ও দিপক চাহারকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারের চতুর্থবার ৫ উইকেট শিকার করলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। স্রোতের বিপরীতে একাই লড়াই করেন রাহুল। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করা রাহুলকে থামান এবাদত।

জবাবে প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন এনামুল হক বিজয়। ব্যক্তিগত ১৪ রানে মোহাম্মদ সিরাজের শিকার হন বিজয়। এরপর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে চাপ সামাল দিচ্ছিলেন নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের হঠাৎ ঘটে ছন্দপতন। ব্যক্তিগত ৪১ রানে ওয়াশিংটন সুন্দরের শিকার হন লিটন। ভাঙে লিটন-সাকিবের ৪৮ রানের জুটি। এরপর বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি সাকিবও (২৯)। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া টাইগারদের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম।

কিন্তু দুজনই ফিরেছেন পরপর দুই বলে। ব্যক্তিগত ১৪ রানে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হন রিয়াদ। আর মোহাম্মদ সিরাজের বলে বোল্ড আউট হন মুশফিক। এরপর আফিফ হোসেনও ফিরে যান দ্রুত।

মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙা হারের স্মৃতি অনেক। এবার উল্টো সেই স্বাদ পেল রোহিত-কোহলিরা। ভারতের হাতের মুঠোয় থাকা নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে আনল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান জুটি। দুইজনের ৫১ রানের জুটিতে অসাধারণ এবং রোমাঞ্চকর এক জয় পায় বাংলাদেশ।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১ উইকেটের নাটকীয় এই জয়ের নায়ক মিরাজ। ৩৯ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১১ নম্বরে নেমে ২ চারে মোস্তাফিজের ১০ রানের ইনিংসের যে বেশ অমূল্য। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এটি ষষ্ঠ জয়। আর ১ উইকেটের তৃতীয় জয়। দুটি জয়ই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

সম্পর্কিত পোস্ট