শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

মালয়েশিয়ায় ৪ দিনব্যাপী প্রতিরক্ষা সম্মেলন

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২২ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২২ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় ৪ দিনব্যাপী প্রতিরক্ষা সম্মেলন

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ডিএসএর আয়োজনে ৪ দিনব্যাপী প্রতিরক্ষা পরিষেবা এশিয়া ও জাতীয় নিরাপত্তা এশিয়ার প্রদর্শনী ও সম্মেলন শুরু হয়েছে। এ সম্মেলন চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

সোমবার (২৮ মার্চ) মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ।

সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৪টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরী হামযাহ বিন জয়নুদিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বন্ধুপ্রতীম মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনের ২য় দিনে জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি হিশামুদ্দিন হুসেন বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সবসময় জৈবিক আক্রমণের সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে ও গুরুত্ব নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

হিশামুদ্দিন বলেন, বিশ্বের মধ্যে যেখানে দেশগুলোর অর্থনীতি, সম্প্রদায়, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, হঠাৎ লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে।

কোভিড-১৯ মহামারির সামনের সারিতে থাকা সবাইকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের যেমন- পুলিশ, মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ও পিপলস ভলান্টিয়ার কর্পস (রেলা) যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর শুরুতে যখন সীমানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছিল মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশ রোধ করতে ন্যাশনাল টাস্কফোর্স (এনটিএফ) ও ‘অপ বেন্টেং’ এর মাধ্যমে সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরী হামজাহ যায়নুদ্দিন বলেন, বিশ্ব দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবার অপরাধের কাজটি আমাদের ডিজিটাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোকে ব্যাহত করছে যা আমাদের জাতীয় কল্যাণের জন্য হুমকিস্বরূপ ও যেকোনো মূল্যে এর মোকাবেলা করা উচিত।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে সাইবার হুমকি ও অনলাইন স্ক্যাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাণিজ্যিক অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ কেস এখন সাইবার ক্রাইম কেস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ২.২৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত ক্ষতির রিপোর্ট রেকর্ড করেছে। সরকার শাসন ও সমন্বয়ের অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে যা সাইবার নিরাপত্তাকে মোকাবিলা করে। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি ইনডেক্স ২০২০ স্কোরে মালয়েশিয়াকে ৫ নম্বরে স্থান দিয়েছে ও সিঙ্গাপুরের পরে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ২ নম্বরে এসেছে। এ স্বীকৃতি একটি সত্য প্রমাণ যা সাইবার নিরাপত্তা মোকাবিলায় আমাদের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

সরকার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে ডিজিটাল অর্থনীতিকে চালিত করার জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নেওয়ার মূল্য বোঝে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশনের পেছনে যৌক্তিকতা স্পষ্ট। এটি দক্ষতা প্রতিযোগিতা ও স্কেল অর্থনীতির উন্নতি করে। অনলাইন কেনাকাটার ব্যবসা ৫৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে ও অনলাইনে খাবার সরবরাহ ৬১ শতাংশ বেড়েছে। সরকার এভাবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করার জন্য প্রিহাতিন অর্থনৈতিক আর্থিক উদ্দীপনা প্যাকেজ প্রবর্তন করেছে। মালয়েশিয়া ডিজিটাল অর্থনীতি ২০২৫ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ২২.৬ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংলাপ-২৯/০৩/০১০/আ/আ

সম্পর্কিত পোস্ট