রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ব্রিটেনে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লড়ছেন বাংলা মিডিয়ার ১২ জন

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রিটেনে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লড়ছেন বাংলা মিডিয়ার ১২ জন

বিশ্বনাথের হাজারীগাঁও গ্রামের মনোয়ার হোসেন ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড মেট্রোপলিটন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম এশিয়ান কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টির যে সূচনা করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় তার বাংলাদেশি উত্তরসূরিরা এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন। যুক্তরাজ্যে আগামী ৫ মে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে অন্যান্য বাংলাদেশি প্রার্থীর সঙ্গে এবার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব থেকে রেকর্ড ১২ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

প্রেস ক্লাবের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং তাদের স্ত্রীরাও এবারের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরোনো চার জন প্রার্থীর সঙ্গে এবার নতুন আরও আট জন প্রার্থী যুক্ত হয়েছেন। মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে সাত জন পুরুষ ও পাঁচ জন নারী। নিজ নিজ দল থেকে তারা নিজ যোগ্যতাবলে মনোনয়ন পেয়েছেন। শেরওয়ান চৌধুরী, সৈয়দা সায়মা আহমেদ, শাহ সোহেল আমিন ও হাসান খান আগেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। নতুন আট জনের সঙ্গে তারা চার জন আবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সৈয়দা সায়মা আহমেদ : লন্ডন বরো অব রেডব্রিজের প্রাণ কেন্দ্র ইলফোর্ড টাউন ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাউন্সিলর সৈয়দা সায়মা আহমেদ। তিনি গত এক দশক ধরে ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য। সৈয়দা সায়মা আহমেদ ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর আরেক সক্রিয় সদস্য সাংবাদিক বুলবুল হাসানের স্ত্রী।

রেবাকা সুলতানা : বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রীন ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেবাকা সুলতানা। তিনি ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর ১ম কার্যনির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবুর স্ত্রী।

শাহেদা রহমান : বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের লেন্সবারি ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাহেদা রহমান। তিনি ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য সাংবাদিক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলালের স্ত্রী।

আমিনা আলী : বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের হোয়াইটচ্যাপেল ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমিনা আলী। ব্রিটেনে বয়োবৃদ্ধ অধিবাসীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত একটি চ্যারিটি অর্গানাইজেশনের ইস্ট লন্ডন শাখার অ্যাডভাইজার হিসেবে পূর্ব লন্ডনের বয়স্ক অধিবাসীদের নিয়ে কাজ করছেন আমিনা আলী। এর আগে তিনি বেনিফিট অ্যাডভাইজার ও মেন্টাল হেলথ চ্যারিটি অর্গানাইজেশনে কাজ করেছেন। কলেজ জীবন থেকে লেবার পার্টির সঙ্গে যুক্ত আমিনা আলী বাংলাদেশেও ছাত্র রাজনীতি করেছেন। টানা ২০ বছর ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা আমিনা আলী স্থানীয় একটি স্কুলের প্যারেন্ট গভর্নর, বিলেতে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে একটি স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। দুই কন্যার মা আমিনা আলী ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাঈম চৌধুরীর স্ত্রী।

সাবিহা কামালী : স্ট্র্যাটফোর্ড-নিউহ্যামের লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবিহা কামালী। তিনি লন্ডন লেবার পার্টির রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি সদস্য। এছাড়াও সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক হিসেবে কমিউনিটিতে পরিচিত। সাবিহা কামালী ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সাবেক সদস্য।

আজিজুল হক কায়েস : ওয়েস্টমিনিস্টার কাউন্সিলের রিজেন্ট’স পার্ক ওয়ার্ডে লেবার পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. আজিজুল হক কায়েস। মর্যাদাপূর্ণ এই ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লন্ডন সেন্ট্রাল মস্ক (রিজেন্ট’স পার্ক মস্ক), বিখ্যাত ওয়েলিংটন হসপিটাল, মাদাম তুসো মিউজিয়াম, লন্ডন জু-সহ লন্ডনে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। এছাড়া সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টার কাউন্সিলের মধ্যে রয়েছে হাউজ অব কমন্স, হাউজ অব লর্ডস, বাকিংহাম প্যালেস সহ ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো। তিনি লেবার পার্টির নর্থ ওয়েস্ট মিনিস্টার সিএলপি’র (নির্বাচনী এলাকা) ফাইনান্সিয়াল অডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিগত কয়েক বছর ধরে। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির লিটল ভেনিস, চার্চস্ট্রীট ও ম্যাইডা ভ্যাল শাখার নির্বাচিত ভাইস চেয়ার হিসেবেও দায়িত্বরত রয়েছেন। আজিজুল হক কায়েস ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য।

ইব্রাহিম খলিল : গ্রেটার ম্যানচেষ্টারের রচডেল বারা কাউন্সিলের কিংসওয়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি তাকে কাউন্সিলার পদে নমিনেশন দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে পুরো রচডেল বারা কাউন্সিলে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে তিনিই একমাত্র এশিয়ান অরিজিন কাউন্সিলার প্রার্থী। ইব্রাহিম খলিল ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য ও দুই বার নির্বাচিত ট্রেনিং সেক্রেটারি।

শেরওয়ান চৌধুরী : লন্ডনের ক্রয়ডন কাউন্সিলের নরবেরি ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাউন্সিলর শেরওয়ান চৌধুরী। ক্রয়ডন কাউন্সিলের পাঁচ বারের কাউন্সিলর শেরওয়ান চৌধুরী ডেপুটি মেয়র ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেরওয়ান চৌধুরী ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সাবেক সদস্য।

ওবায়দুল কবির খোকন : বার্মিংহাম স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে স্পার্কব্রুক ও বালসাল হিথ ইস্টে কনজারভেটিভ এবং ইউনিয়নিস্ট পার্টির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওবায়দুল কবির। পেশায় আইনজীবী ওবায়দুল কবির ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য।

শাহ সোহেল আমিন : বাঙালি অধ্যুষিত লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের হোয়াইটচ্যাপেল ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাহ সোহেল আমিন। প্রথবারের মতো তিনি লেবার দলের সদস্যদের বিপুল সমর্থনে মনোনয়ন লাভ করেন। কাউন্সিলর শাহ সোহেল আমিন ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য।

হাসান খান : ব্র্যাডফোর্ড মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের বোলিং ও বারকারেন্ড ওয়ার্ডে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাউন্সিলর হাসান খান। তিনি ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য।

জিয়া উদ্দিন তালুকদার : বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের বোর্ডেসলে ও হাইগেট ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন তালুকদার। তিনি ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সক্রিয় সদস্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতার জন্য প্রার্থীরা ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ পরিবারের সবার আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেছেন।

‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী প্রার্থীদের জন্য শুভ কামনা জানিয়ে বলেন, এবারের স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের বেশ কয়েকজন সুহৃদ ক্লাব-সদস্য এবং কারও কারও পরিবারের সদস্য কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজের বৃহত্তর পরিসরে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত তাদের এই আকাঙ্ক্ষা, পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টা সফল হোক। সবার জন্য আন্তরিক শুভ কামনা।

‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক চৌধুরী প্রার্থীদের শুভ কামনা জানিয়ে বলেন, এটা শুভ লক্ষণ যে সাংবাদিকরা মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়। সাংবাদিকরা বিলেতে নিজ কমিউনিটিকে নেতৃত্ব দেবেন এবং নীতি নির্ধারণী বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন। তিনি সবার সফলতা কামনা করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট