মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

ব্রাসিলিয়া দূতাবাসে ৭ মার্চ পালিত

প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২২ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ মার্চ ২০২২ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ব্রাসিলিয়া দূতাবাসে ৭ মার্চ পালিত

ব্রাসিলিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

৭ মার্চ সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি সূচনা করা হয়। সন্ধ্যায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ঐতিহাসিক এ দিবস উপলক্ষ্যে দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াতের পর দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের শুরুতেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দেবার জন্য জাতির পিতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার পাশাপাশি ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ক্রমঅগ্রসরমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন, সারা বিশ্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের কথা তিনি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, যে এ সবই আজ সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে যাবার জন্য। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যে একটি ভাষণ একটি পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারে- পৃথিবীতে এমন নিদর্শন বিরল। এ ঐতিহাসিক ভাষণকে রাষ্ট্রদূত পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে উল্লেখ করে আরও বলেন, বিংশ শতাব্দীতে যে কয়েকটি ঘটনা পৃথিবীতে গণতন্ত্রকামী মানুষের মুক্তির পথ সুগম করেছিল, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অন্যতম।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এর ভিডিও প্রাচারিত সমাগত সুধীবৃন্দ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভাষণের ঝংকার উপস্থিত ব্রাজিলীয় নাগরিকদেরও স্পর্শ করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইংরেজি সাব-টাইটেলসহ প্রচারের পাশাপাশি ভিন্ন একটি প্রজেক্টরে ভাষণটির ব্রাজিলীয় পর্তুগীজ অনুবাদও প্রদর্শিত হয়।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ব্রাজিলীয় পর্তুগীজ ভাষায় অনুবাদ করে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয় এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উপহার হিসেবে তা প্রদান করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার জনগণও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারবেন বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রাজিলীয় জণগণের মাঝে বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

সংলাপ/০৩/০৮/০১৫ আজিজ

সম্পর্কিত পোস্ট