বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আমিরাতের আজমান বাঙালি মার্কেট

বিপাকে দেশীয় তৈরি পোশাক নির্ভর পাইকাররা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ৪:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ৪:১৭ অপরাহ্ণ
বিপাকে দেশীয় তৈরি পোশাক নির্ভর পাইকাররা

মহামারি করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এবার নব উদ্যমে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীরা। ঈদকে ঘিরে সরগরম ছোট বড় বাজার ও শপিং মল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে বেড়েছে ঈদের আমেজ। খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পণ্যের যোগান দিতে পারেননি বাংলাদেশি তৈরি পোশাক নির্ভর পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ঈদকে কেন্দ্র করে করোনাকালীন ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইলেও শিপমেন্ট জটিলতায় তাদের বহুপণ্য দেশেই আটকে গেছে। পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় রমজানের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয় কমতে শুরু হয়। যথাসময়ে আমিরাতে দেশীয় তৈরি পোশাক না আসায় পাইকারদের ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বারবার যোগাযোগ করলেও চাহিদামত পণ্য সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাদেশিক শহর আজমানে রয়েছে বাংলাদেশিদের বৃহত্তর একটি পাইকারি বাজার। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বাঙালি মার্কেট’ নামে পরিচিত। এখানে তৈরি পোশাক কেন্দ্রীয় বাংলাদেশিদের প্রায় পাঁচ শতাধিক পাইকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ছোট পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে ৫-১৫ হাজার পিস পোশাক আমদানি করলেও বড় পাইকারদের আমাদানির পরিমাণ লাখ-দেড় লাখ পিস ছাড়িয়ে যায়। যেখান থেকে রেমিট্যান্সের বিশাল একটি অংশ পায় বাংলাদেশ। দেশটির খুচরা ব্যবসায়ীরা এই পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনে ভোক্তা চাহিদা মেটান। আমিরাতের চাহিদা পূরণ করে এসব তৈরি পোশাক পুনরায় রপ্তানি হয় সৌদি আরব, ইরান, ওমান, মিশর, তুর্কি সহ বেশ কিছু দেশে। এ ছাড়া আফ্রিকা থেকেও অনেক ব্যবসায়ী আসেন এই বাজারে। যারা নিয়ে যান বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব তৈরি পোশাক। এতে করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের মুনাফা বাড়ে, বৃদ্ধি পায় দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আজমানের এই বাঙালি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসা মূলত রমজানের দু’মাস পূর্বেই শুর হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পোশাক নিয়ে আসেন এই বাজারের পাইকাররা। আমিরাতের সঙ্গে সমুদ্র পথে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় কয়েকটি দেশ ঘুরে এসব বিক্রয়জাত পণ্য আনতে হয় তাদের। দেশ থেকে মালামাল আমিরাতে পৌঁছতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ দিন। তবে এবার ৫০ থেকে ৬০ দিন পেরিয়ে গেলেও মালামাল হাতে আসেনি তাদের। দেশীয় গার্মেন্টস কোম্পানিগুলো অনেকসময় দ্রুত পণ্য পাঠাতে কার্গো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। তবে সম্প্রতি কিছু কার্গো প্রতিষ্ঠানের তথ্য জটিলতার কারণে দেশের কাস্টমসে মালামাল আটকে গেছে এই বাজারের পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর। আবার কিছু পণ্য দুবাইয়ের বন্দরেও আটকে আছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, কিছু কার্গো প্রতিষ্ঠান অল্পসময়ে বেশি পরিমাণ লাভ করতে গিয়ে দেশে কাস্টমসে এসব মাল আটকে গেছে। যেখানে আমিরাতের কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। যথাসময়ে মালামাল না পৌঁছায় বিপাকে পড়েছেন এসব পাইকাররা। ঈদ মৌসুমে এমন জটিলতাকে ব্যবসায়িক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তারা। তবে কিছু কিছু মালামাল ছাড়া হলেও সমুদ্র পথেই শেষ হয়ে যাবে ঈদ বাজারের আমেজ। কারণ সেসব পণ্য আমিরাত পৌঁছবে ঈদের পর।  

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি পোশাকের সারি সারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান। পণ্যের নমুনা হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছু সংখ্যক পোশাক সাজানো থাকলেও মূলত মালামাল রাখা হয় স্টোর বা গুদামে। এই বাজারে খুচরা ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা নেই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢু মারতে দেখা গেছে। পছন্দ মত পণ্য পেলে এসব খুচরা ব্যবসায়ীরাও বড় অংকের লেনদেন করে বের হন। কিন্তু ঈদের নতুন চালান না আসায় বেশির ভাগ পাইকাররা মজুদ পণ্যের উপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।  

বাঙালি মার্কেটের আলতুবা আল অনিক রেডিমেড গার্মেন্টস স্বত্বাধিকারী মোঃমনিরুজ্জামান মনির জানান, আমিরাতের কয়েকটি স্থানে পাইকারি পোশাক বিক্রি হলেও মানসম্মত পণ্যের জন্য সবার পছন্দের এবাং বড় জায়গা সানাইয়া বাঙালি মার্কেট । সারা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পণ্য কিনতে আসেন।

বাঙালি মার্কেটের নূর আল কালাম রেডিমেড গার্মেন্স এর স্বত্বাধিকারী মো আব্দুল কালাম জনান,আমারা দীর্ঘদিন যাবত মার্কেটে ব্যবসা করে এসেছি,অনেক চড়াই উৎরাই পার করেছি তবে এবারেই প্রথম আমার আমার পণ্য যথা সময়ে হাতে পাইনি।

বাঙালি মার্কেটের মোহাম্মদ নাসির রেডিমেড গার্মেন্স এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নাসির জানান ,চলমান সিপমেন্ট জটিলতায় আমার এখনো অনেক পন্যবাহী কনটেইনার হাতে পাইনি, তবে আমাদের কিছু ব্যবসায়ীদের পন্য আসতে শুরু করেছে।যেগুলো আরো দু’মাস পূর্বে আসার কথা ছিলো।আমাদের সিপমেন্ট গুলো যদি সঠিক সময়ে আসতো তাহলে আমারা প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আমাদের দেশে জন্য বড় অংকের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে দেশকে আরো শক্তিশালী করতে পারতাম।বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই আবেদন দেশসহ আমদের প্রবাসী ব্যবসায়ীদের দিকে নজর দিতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট