রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাবর-রিজওয়ানের বীরত্বে পাকিস্তানের জয়ের সমান ড্র

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২২ | ৮:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২২ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
বাবর-রিজওয়ানের বীরত্বে পাকিস্তানের জয়ের সমান ড্র

করাচি টেস্টে জিততে হলে শেষ দিনে ৩১৪ রান করতে হতো পাকিস্তানকে; হাতে ছিল ৮ উইকেট। টেস্টের পঞ্চম দিনে যা প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য।

কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার দিকেই ছুটছিলেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাদের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত জয় না পেলেও জয়ের সমান ড্র করতে পেরেছে পাকিস্তান।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেওয়া ৫০৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৩ রান তুলেছে পাকিস্তান। ফলে অনেকটা নিশ্চিত জয় হাত থেকে ছুটে গেল অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে এমন ড্র করল পাকিস্তান, যা প্রায় জয়ের সমান। সিরিজেও 0-0 সমতা বিরাজ করছে।

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড উইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় এই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই তারা বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। তাই করাচি টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে বিশ্বরেকর্ডটি লিখতে হতো নতুন করে। সেই লক্ষ্যে রান তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে ১৯২ রানে চতুর্থ দিন শেষ করেছিল পাকিস্তান।

পঞ্চম ও শেষ দিনে তাই স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১৪ রানের। এদিন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক বাবর আজম। আগের দিন ১০২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা বাবর আজও ছিলেন দারুণ ছন্দে। তবে চতুর্থ দিন শেষে ৭১ রানে অপরাজিত থাকা আবদুল্লাহ শফিক আজ ফিরেছেন সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরত্বে। ৯৬ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩০৫ বল খেলেছেন এই ওপেনার; হাঁকিয়েছেন ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। বাবরের সঙ্গে তার জুটি স্থায়ী হয় ৫২৪ বল, রান আসে ২২৮।

শফিক বিদায় নেওয়ার পর ফাওয়াদ আলম (৯) বিদায় নিলে ফের চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। কিন্তু এরপরই রিজওয়ান ও বাবর মিলে ফের কক্ষপথে ফেরান স্বাগতিকদের। দুজনে মিলে গড়েন ১১৫ রানের জুটি। তাদের জুটিতেই জেতার স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। বাবর তো ছুটছিলেন দ্বিশতকের দিকে। কিন্তু দলকে ৩৯২ রানে রেখে অজি স্পিনার নাথান লায়নের বলে বাবর বিদায় নিলে ভাঙে দারুণ এক জুটি। ৪২৫ বলের মোকাবিলায় ২১ চার ও ১ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ১৯৬ রান করে ফেরেন পাকিস্তানি অধিনায়ক।

এদিকে বাবর বিদায় নিতেই অল্প সময়ের ব্যবধানে ফাহিম আশরাফ (০) এবং সাজিদ খানের (৯) উইকেট হারায় পাকিস্তান। ফলে হারের শংকা ভর করে পাকিস্তান শিবিরে। তবে এক প্রান্তে তখনও অটল রিজওয়ান ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। অপরপ্রান্তে নুমান আলীকে নিয়ে ড্রয়ের পথ পরিষ্কার করার পর দিনের শেষ ওভারের আগের ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো তিন অংকের দেখা পান রিজওয়ান। ম্যাচ ড্র নিশ্চিত করার পথে ১০৪ রানে অপরাজিত থাকেন রিজওয়ান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৫৬/৯ ডি. (উসমান খাজা ১৬০, অ্যালেক্স ক্যারি ৯৩, স্টিভ স্মিথ ৭২; ফাহিম আশরাফ ৫৫/২, সাজিদ খান ১৬৭/২)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৪৮/১০ (বাবর আজম ৩৬; মিচেল স্টার্ক ২৯/৩, মিচেল সুইপসন ৩২/২)

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৯৭/২ ডি. (উসমান খাজা ৪৪, মার্নাস লাবুশানে ৪৪; শাহিন শাহ আফ্রিদি ২১/১, হাসান আলী ২৩/১)

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৪৪৩/৭ (বাবর ১৯৬, রিজওয়ান ১০৪*, শফিক ৯৬; নাথান লায়ন ১১২/৪, প্যাট কামিন্স ৭৫/২)

ফলাফল: ড্র

সংলাপ-১৬/০৩/০০৯/আ/আ

সম্পর্কিত পোস্ট