সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১

বাংলাদেশি শাহজাহান ইউক্রেন থেকে যেভাবে স্পেন গেলেন

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২ | ২:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২২ | ২:৫১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশি শাহজাহান ইউক্রেন থেকে যেভাবে স্পেন গেলেন

‘পোল্যান্ড সীমান্ত চেকপোস্টে হাজার হাজার নিরাপদ আশ্রয়প্রার্থীর ভিড়। ইমিগ্রেশন লাইনে কে কার আগে যাবেন তা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। তবুও দুদিন দুই রাত খোলা আকাশের নিচে ঠান্ডা হাওয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেছি। পরে ইমিগ্রেশন জটিলতা শেষ করে প্রায় চারদিন পোল্যান্ডের ইমিগ্রেশনের নিরাপত্তায় ছিলাম। বাংলাদেশিদের জন্য আউটপাস দেন তারা।’

এভাবেই নিজের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, পরিবারের সঙ্গে স্পেনে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি মো. শাহজাহান আহমদ খোকন। তিনি বলেন, আউটপাসটি একটি আইডি কার্ডের মতো। সেটা থাকলে বর্ডারে কোনো সমস্যা হয় না। পোল্যান্ড-বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের যতটুকু সহযোগিতা করে তা ভুলবার নয়।

যেসব বাংলাদেশি ইউক্রেনে বসবাস করতেন তারা কেমন করে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে? কীভাবে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেলেন? এ রকমই একজন বাংলাদেশি নাগরিক শাহজাহান। তিনি সদ্য ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করে স্পেনে এসে পৌছেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আলেচনার প্রধান খোরাক হয়ে ওঠেছে। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ হচ্ছে। জীবনযাত্রায় ব্যাপকহারে চাপ বাড়ছে। এ যুদ্ধে এক বাংলাদেশি নাবিকের মৃত্যুর মাধ্যমে তৈরি হয় উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক। সেই আতঙ্কের ধাক্কা লাগে প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মনে।’

ইউক্রেন থেকে স্পেনে পরিবারের কাছে ফেরা শাহজাহান বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের মাটি কেঁপে ওঠে। রাতেই কিয়েভ ছেড়ে পোল্যান্ড বর্ডারে যাত্রা করি। প্রায় ২১ ঘণ্টা যাত্রা করে আরও ২০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পোল্যান্ডের সীমানায় যাই।

‘ইউক্রেন ছাড়ার সময় শুধু নিজের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই আনতে পারিনি। নিজের পাসপোর্টটিও ফেলে আসতে হয়েছে। আর কিয়েভ রাজধানী ছেড়ে আসার সময় সেনাসদস্যের টহল ছিল। কিন্তু কেউ বাধা দেয়নি।’

শাহজাহানের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায়। গত বছর ডিসেম্বর মাসে ইউক্রেনে পাড়ি জমান। সেখানে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার আগেই যুদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হন তিনি।

সংলাপ-১৩/০৩/০০৩/আ/আ

সম্পর্কিত পোস্ট