মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মন্ত্রীদের তোড়জোড়

প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফর, দূরত্ব কমে গুরুত্ব বাড়বে ?

প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২২ | ৩:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩ মার্চ ২০২২ | ৩:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফর, দূরত্ব কমে গুরুত্ব বাড়বে ?

চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রবাসীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যদিয়ে দু’দেশের সম্পর্কোন্নয়নসহ নানান সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাইপ্রোফাইল এই সফরকে ঘিরে তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে উর্ধ্বতন মহলে। গেল ফেব্রুয়ারিতে পৃথক ভাবে আমিরাত সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াসহ বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

সফরকালে আমিরাত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন তারা। এই সময়ে দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু আলোচনা ও অগ্রগতি সম্পন্ন করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে আগাম প্রস্তুতি নিতেই গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা আমিরাত সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে তাদের আলাদা সফরসূচি থাকলেও তার অধিকাংশই ছিল অপ্রকাশিত।
এ সফরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে আমিরাত-বাংলাদেশ ব্যবসায়িক সম্পর্কোন্নয়ন এবং যৌথ ব্যবসায়িক ফোরাম গঠন। তবে রাজনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি মৃদু আভাস দিলেও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিই জরুরি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর একটি দ্বিপাক্ষিক সফর হবে। দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সকল বিষয়ে আলোচনা হবে। আমিরাত-বাংলাদেশের অনেক পুরনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সঙ্গে এই সফরকালে যৌথ বিজনেস ফোরাম গঠন ও সুদূরপ্রসারী আলোচনা হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচীতে প্রবাসীদের নিয়ে বিশেষ কোন পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি তার মুখ থেকে।

ওয়ার্ল্ড এনআরবি সিআইপি এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাতাবুর রহমান নাসির বলেন, বাংলাদেশ ও আমিরাতের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক ঘাটতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্যদিয়ে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ ফোরাম গঠন হলে সেই ঘাটতি পূরণ হবে।

বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রাজা মল্লিক বলেন, আমরা প্রত্যাশা করবো সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করে প্রবাসীদের সুযোগ সুবিধা আরও কী করে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের আগস্টে অপরাধপ্রবণতার অভিযোগ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের নতুন শ্রমিক ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয় বিশ্বের দ্বিতীয় শ্রম বাজারখ্যাত সংযুক্ত আরব আামিরাত সরকার। এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমিরাত সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক ধাপে ভিসা চালু হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও খোলেনি বন্ধ দুয়ার। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড এক্সপো আয়োজনের ভোটাভুটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ের নাম শীর্ষে, তখন পছন্দের দেশ হিসেবে রাশিয়াকে সমর্থন জানাই বাংলাদেশ। যার চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

আমিরাতে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক রপ্তানির সুযোগ লুফে নেয়া তো যায়নি, উল্টো দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া। ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ এমন পরিস্থিতিতে সেই নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে রাশিয়াকে সমর্থন দিলেও চূড়ান্ত লড়াইয়ে আমিরাত তথা দুবাইকে ভোট দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ভোটে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অনুরোধ রক্ষার বিষয়টি ঢাকাকে বেকায়দায় ফেলেছিল বলে আবুধাবিকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও ওই যুক্তিতে সন্তষ্ট হয়নি আবুধাবি। সবশেষ প্যারিসে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর ১৫৪তম সাধারণ অধিবেশনে আমিরাতই চূড়ান্ত জয় পায়।

আর আয়োজক হবার গৌরব অর্জন করে আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাই। এ কারণে আমিরাত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয় বলেও গুঞ্জন রয়েছে সর্বমহলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্যদিয়ে আমিরাতের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে গুরুত্ব বাড়ানোটা এখন সবচেয়ে জরুরি বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যবসার চেয়ে রাজনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের ব্যাপারটাও জড়িত এই সফরে। আর তাই অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের সফর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, নানান জটিলতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে পড়েছেন। যেমন, ভালো বেতন না পাওয়াতে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার আগেই অন্যত্র কাজের সন্ধান করেন অনেক শ্রমিক। এক পর্যায়ে ভিসা/আইডির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে তারা পড়েন বিপাকে। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সময় মতো ভিসা নবায়ন করতে পারেন না তারা। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর জরিমানা গুনতে হয় এই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের। তবে অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিকই জরিমানার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অবৈধ ভাবেই অতিবাহিত করছেন প্রবাস জীবন। এছাড়া দেশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। নিজের খরচ চালিয়ে অনেকেই যে পরিমাণ রেমিটেন্স প্রেরণ করেন তার পরিমাণও খুবই কম। তাই রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের জন্য আরও প্রণোদনা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকেরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমিরাত সফর সূচি ও আলোচনায় কর্মক্ষেত্রে প্রবাসীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বেতন বৃদ্ধি, ভিসা নবায়নে জরিমানা মওকুফ, রেমিটেন্স প্রণোদনা বৃদ্ধি ও বিমান ভাড়া কমানোর ব্যাপারে এজেন্ডা রাখার জোর দাবি প্রবাসী শ্রমিকদের।

সংলাপ/০৩/০৩/০০৩/ হাসান

সম্পর্কিত পোস্ট