শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ ভারতের

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩:৩০ অপরাহ্ণ
পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ ভারতের

বাংলাদেশের চাই ৬ উইকেট। ভারতের দরকার ১০০ রান। টেস্টের বাকি দুই দিন। জয়ের সম্ভাবনা ভারতের দিকে থাকলেও স্মরণীয় এ আশায় ছিল বাংলাদেশও। রোববার দিনের শুরুতে তিন উইকেট নিয়ে জয়ের আশায় বুঁদ ছিল সাকিবরা। কিন্তু পরে মুমিনুলের ক্যাচ মিস, শ্রেয়াস ও অশ্বিনের জমাট জুটিতে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।

মিরপুরে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই টেস্ট সিরিজে ভারত জিতল ২-০ ব্যবধানে। সাদা পোশাকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম জয়ের আশায় থাকা বাংলাদেশের কপালে জুটল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ২২৭ রান। জবাবে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে তোলে ৩১৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে জাকির ও লিটনের ফিফটিতে বাংলাদেশ অল আউট হয় ২৩১ রানে। জয়ের জন্য ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪৫ রানে। শনিবার টেস্টের চতুর্থ দিনে এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪ উইকেটে ৪৫ রান করে ভারত। সুবমান গিল, অধিনায়ক লোকেশ রাহুল, চেতশ্বর পূজারা বিদায় নেন দুই অঙ্কের রানে পৌঁছানোর আগেই। টিকতে পারেননি বিরাট কোহলিও। ২২ বল খেলেও থিতু হতে পারেননি। মাত্র এক রান করে মিরাজের শিকার তিনি।

চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য পাখির চোখ করেছিল বাংলাদেশ। কারণ ভারতের নেই টপ অর্ডারের ব্যাটার। বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা দারুণ সাফল্য জাগানিয়া। সাকিবের ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফেরেন যাদব উনাদকাট। ১৬ বলে ১৩ রান করেন তিনি। আম্পায়ার শুরুতে আউট দেন। তবে রিভিউ নেয় ভারত। রিপ্লেতে দেখা যায় বল সরাসরি হানা দিত মিডল স্টাম্পে।

দ্বিতীয় উইকেট আসে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। তিনিও সাকিবের মতো এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলেন ঋষভ পান্তকে। ১৩ বলে ৯ রান করে ফেরেন পান্ত। পরের ওভারেই আবার মিরাজ ঝলক। বোল্ড করেন দেন ঋষভ পান্তকে। পুরোপুরি পরাস্ত ঋষভ ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বল হালকা প্যাড ছুঁয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। ৬৯ বলে ৪টি চারে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে ফেরেন পান্ত।

এরপর মিরাজের বদৌলতে আরও একটি উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন মুমিনুল হক। ৩৩.৪ ওভারে মিরাজের বলে ঘুরিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন অশ্বিন। কিন্তু ক্যাচ উঠে যায় খুব কাছেই। মুমিনুলের সেটি লুফে নিতে পারেননি অবিশ্বাস্যভাবে। অথচ গতকাল কোহলির এর চেয়ে কঠিন ক্যাচ একই জায়গায় ঝাঁপিয়ে নিয়েছিলেন। এবার নিজ জায়গা দাঁড়িয়েও তিনি করলেন শিশুতোষ ভুল।

পরে খালেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন আবার অশ্বিন। ঝাঁপিয়ে পড়েও দুরূহ ক্যাচ নিতে পারেননি লিটন দাস। শ্রেয়াস ও অশ্বিন জুটিতে জয়ের দিকে আগাতে থাকে ভারত। ৯০ বলে অষ্টম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৫০ রান।

শেষ পর্যন্ত এই জুটি আর বিচ্ছিন্নই করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। দাঁড়িয়ে যাওয়া অশ্বিন ও শ্রেয়াস শেষের দিকে খেলেছেন ওয়ানডে স্টাইলে। কোনো প্রকার সুযোগই দেননি তারা। ৪৬ বলে ২৯ রানে শ্রেয়াস ও ৬২ বলে চারটি চারে ৪২ রানে অশ্বিন থাকেন অপরাজিত। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।

চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ১৮৮ রানের বড় ব্যবধানে। মিরপুরে তার শোধ তোলার দারুণ একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।

এর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। শেষ টেস্টে জিততে পারলে বাংলাদেশ সিরিজ ড্র করতে পারত। সেই সঙ্গে আসত ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয়ের স্মরণীয় মুহূর্ত। কিন্তু বাংলাদেশকে হারের হতাশা উপহার দিয়ে সফর শেষ করলো রাহুল-কোহলিরা।

সম্পর্কিত পোস্ট