মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

তিনবারের চেষ্টায় আনারকে হত্যা, উদ্দেশ্য ছিল জিম্মি করে টাকা আদায়

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৫ মে ২০২৪ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ
তিনবারের চেষ্টায় আনারকে হত্যা, উদ্দেশ্য ছিল জিম্মি করে টাকা আদায়

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার আগে আরও দুবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। দুই দফায় হত্যাকারীদের পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ায় বেঁচে যান তিনি।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ৷

হারুন বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল মূল মাস্টার মাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আমানউল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। কিন্তু বার বার তাদের পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ায় বেঁচে যান সংসদ সদস্য আনার।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত ১৩ মে শাহীনের ফাঁদে পা দেওয়ার পরে আনারকে আপত্তিকর ছবি ব্যবহারে জিম্মি করা এবং তার বাংলাদেশ ও কলকাতার বন্ধুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার ওপর অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগ করার কারণে জ্ঞান না ফেরায় হত্যা করা হয়।

ডিবিপ্রধান বলেন, সংসদ সদস্য আনার হত্যার ঘটনা তদন্তে ভারতীয় পুলিশের একটি দল ঢাকায় কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের হাতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দুটি বিষয় পেয়েছি। দুটি গ্রুপ এখানে কাজ করেছে। একটি গ্রুপ মদদ দিয়েছে, আরেকটি গ্রুপ বাস্তবায়নে কাজ করেছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, এই ঘটনার মদদদাতা আক্তারুজ্জামান শাহীন ৩০ এপ্রিল কলকাতায় তিন সদস্যকে নিয়ে যান। শাহীন ১০ মে পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের মূলনেতা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্টের নেতা আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূইয়াকে বুঝিয়ে দিয়ে দেশে চলে আসেন। এই আমানুল্লাহ ভুইয়া নাম ব্যবহার করে ভারতে গিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। যেহেতু ভারতীয় পুলিশ আমাদের এখানে কাজ করছে, তাদের কাজ শেষ হলে আমরাও কলকাতায় যাবো।

কী কারণে হত্যা করা হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, এই হত্যার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এই হত্যা বাস্তবায়নে সবাই পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গলাকাটার ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। কী কারণে হত্যা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী কারণে এই হত্যা সেটি আরও তদন্ত শেষে বলা যাবে।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আগেও সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগেও তারা হত্যার চেষ্টা করেছে। তখন তারা ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়বার জানুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যেও সংসদ সদস্য আনোয়ারুল কলাকাতায় যান। সেই সময়ে হত্যাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যায়। কিন্তু হোটেলে থাকার কারণে সেইবার তারা ব্যর্থ হয়। তৃতীয় ধাপে তারা এসে সফল হয়েছে।

তবে হত্যার আগে তাদের পরিকল্পনা ছিল সংসদ সদস্য আনোয়ারুলকে জিম্মি করা। এরপর তার আপত্তিকর ছবি তুলে দুই দিন ব্লাকমেইল করে হুন্ডির মাধ্যমে এবং কলকাতায় থাকা তার বন্ধুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার। কিন্তু আনার ওই বাসায় যাওয়ার পরে তার মুখে চেতনানাশক স্প্রে করায় জ্ঞান হারান। অজ্ঞান অবস্থায় আনারের আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। কিন্তু তাদের মূল টার্গেট ছিল হত্যা করা। আদায় করা টাকা হত্যাকারীদের ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে স্প্রে করায় জ্ঞান না ফেরায় ব্ল্যাকমেইলের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে লাশ গুমের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

এরপর তারা মোবাইলগুলো বিভিন্নস্থানে পাঠিয়ে দেয়। এমনকি হত্যাকারীদের একজন আনারের চারটি মোবাইল বেনাপোল এলাকায় নিয়ে আসে। এখানে এসে আনারের প্রতিপক্ষকে চারটি মোবাইল থেকে ফোন করা হয়। ফোন করে বলা হয় ‘শেষ’। এর টার্গেট ছিল এই ফোনের সূত্র ধরে যেন পুলিশ প্রতিপক্ষকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। হত্যাকারীদের যেন না পায়।

স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি ন জানতে চাইলে হারুন বলেন, নির্দিষ্ট কোনো কিছুই বলা যাবে না। তবে অনেকগুলো বিষয় আছে। তদন্ত শেষ করে আমরা আপনাদের জানাতে পারবো।

হত্যার ঘটনায় কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কীসের ভিত্তিতে হত্যার কথা বলা হচ্ছে জানতে চাইলে হারুন বলেন, আমরা অনেক তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখন প্রকাশ করছি না। প্রমাণ পেয়েই কলকাতায় হত্যা মামলা হয়েছে। আমাদের দেশে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। কলকাতায় মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই তারা আলামত পেয়েছে। কলকাতায় হওয়া হত্যা মামলার তদন্তে আমরাও যাবো।

সম্পর্কিত পোস্ট