শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১

বিমানযাত্রীদের জন্য অনন্য উদ্যোগ

ঢাকায় ‘মুসাফিরখানা’ করবে দুটো ফাউন্ডেশন

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২২ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২২ | ৬:২৮ অপরাহ্ণ
ঢাকায় ‘মুসাফিরখানা’ করবে দুটো ফাউন্ডেশন

শত বছর পূর্বে পথিকের ক্ষণিক আশ্রয়, নিদ্রা কিংবা হালকা আহারের জন্য তৈরি করা হতো মুসাফিরখানা। দূর-দূরান্তের পথিকরা ক্লান্ত শরীরে কিছুটা সময় এই মুসাফিরখানায় বিশ্রাম করে ফের ছুটে যেতেন গন্তব্যে। যেখানে রাখা হতো খাবারের সুব্যবস্থা। এবার ঢাকা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এমনই একটি মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে দুটো সংগঠন। বাংলাদেশের এনজিও ভিত্তিক আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে এই মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

উদ্যোক্তারা জানান, বিমানবন্দরে অবরতণের পর প্রবাস ফেরত বাংলাদেশিরা যানবাহন সংকটে নানামুখী জটিলতায় পড়েন। কারো কারো রাস্তায় কেটে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। এই মুসাফিরখানা তাদের কিছুটা স্বস্তি দিবে। নির্ধারিত সময় দেখে বিমানবন্দর থেকে যাদের গাড়ি ধরতে হয় কিংবা যাত্রা করতে হয় তারা বিনা সংকোচে এই মুসাফিরখানায় অবস্থান করতে পারবেন। আবার বিদেশগামী দূরের যাত্রীরা, বিশেষ করে যারা ঢাকার বাইরে থেকে নির্দ্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে যান, তারাও এখানে বিশ্রাম নিতে পারবেন। এছাড়া ইমিগ্রেশন কর্তৃক অকৃতকার্য যাত্রীদের তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফেরার দুশ্চিন্তাও কমাবে এই মুসাফিরখানা। এমন যাত্রীরা তাৎক্ষণিক বাড়ি ফেরার সামর্থ্য না থাকলেও হোটেলের বারান্দায় দাঁড়াতে হবে না। সরাসরি এই মুসাফিরখানায় অবস্থান করতে পারবেন তারা।

ফাউন্ডেশন দুটোর কর্তারা জানান, আগামী ২-১ মাসের মধ্যে এই মুসাফিরখানা স্থাপনের জন্য বাড়ি বরাদ্ধ করবেন তারা। শুরু হবে প্রাথমিক সেবা প্রদান কার্যক্রম। এরপর নিজস্ব ভবন তৈরী হয়ে গেলে সেখানেই সকল কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি মুসাফিরখানায় অবস্থানরত বিদেশগামী যাত্রীদের বিভিন্ন দেশের আইন-কানুন ও ইমিগ্রেশন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন বলেন, ফ্লাইট ধরতে প্রবাসগামী যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে হয়। দিকনির্দেশনা না পাওয়াতে তাদের অনেক সময়ও অপচয় হয়। আবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে অনেকে প্রতারণা করেন। তাই আমরা প্রবাসীদের জন্য মুসাফিরখানা চালু করছি। এরমাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগ হয়ত খুব সহজে নিরসন হবে না। কিন্তু আমরা চাইলে সেই দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে পারি। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, মুসাফিরখানার মাধ্যমে প্রবাসগামী ও ফিরতি যাত্রীদের আবাসন, যানবাহন, খাবার থেকে শুরু করে বহুমুখী সেবা প্রদান করব।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দুবাই বাংলাদেশ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাফর চৌধুরী বলেন, মুসাফিরখানার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে অনেক প্রবাসী উপকৃত হবেন।বিশেষ করে যাদের বিমানবন্দর এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট