শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

ঢাকার গতি ও সমৃদ্ধি বাড়াবে মেট্রোরেল

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার গতি ও সমৃদ্ধি বাড়াবে মেট্রোরেল

রাজধানীবাসীর প্রতিদিনের ভোগান্তির নাম যানজট। স্বল্প দূরত্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেও সীমাহীন দুর্ভোগ ও সময়ের অপচয় হচ্ছে। তীব্র যানজটের কারণে ঢাকায় যানবাহনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের নিচে নেমেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে রাজধানীবাসীর শারীর ও মনে।

বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে, যানজটের কারণে ঢাকা মহানগরীতে দৈনিক ৫০ লাখ কর্ম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে কর্মজীবীদের, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সমীক্ষাও দিচ্ছে একই তথ্য। সমীক্ষায় ২০০৪ সালে ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতি ছিল প্রায় ২১.২ কিমি/ঘণ্টা। যা ২০১৫ সালে তা ৬.৮ কিমিতে নেমে আসে। ২০২০ সালের ঢাকায় যানবাহনের গতি মানুষের হাঁটার গতির মতো ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটারে নামে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুসারে রাজধানীতে যানজটের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষতির হিসাবে যা দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৯ শতাংশ। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাথাপিছু আয়েও।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা অনুসারে, যানজটের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমছে ৩ শতাংশের বেশি, এমনকি দারিদ্র্য বিমোচনের হারও কমছে আড়াই শতাংশের কাছাকাছি। এসব পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে সরকার ফ্লাইওভার ও ইউলুপসহ নগর ভিত্তিক বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ সংযোজন হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল। আধুনিক নগর-পরিকল্পনা ও গণপরিবহনে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে মেট্রোরেলকে। যানজট নিরসন, দ্রুত বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য উন্নত বিশ্বে মেট্রোরেল সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। সেই বিবেচনায় ২০১২ সালে হাতে নেওয়া মেট্রোরেল প্রকল্প। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তির পরে মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।

এ প্রকল্পের আওতায় উত্তরা (দিয়াবাড়ি) থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ চলছে। চলতি মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের। পুরো মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পথের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহর যানজটের কবল থেকে অনেকটা মুক্তির পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক হিসাবের বিবেচনায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। আর যানজট থেকে মুক্তি মিললে আমদানি-রপ্তানির সরবরাহ লাইনও গতিশীল হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যানজট সমস্যা নিরসনের পথে নতুন একটি মাইলফলক হচ্ছে মেট্রোরেল। এর সঙ্গে শুধু জিডিপি নয়, মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত। এটা জনকল্যাণের বিষয়। সাধারণ জ্ঞান থেকে আমি যেটা মনে করি ঢাকায় একটা ম্যাস ট্রানজিট সিস্টেমের অভাব আছে। এখন আংশিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যদি চালু হয়, সেটার একটি পজিটিভ যাত্রা হিসেবে ধরে নিতে পারি। এটাও অনেক বড় বিষয়।

সম্পর্কিত পোস্ট