শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে আশা রাখল উইন্ডিজ

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ৮:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে আশা রাখল উইন্ডিজ

প্রথম ম্যাচেই স্কটিশদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাবেক দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন শুরুটা ছিল খুবই হতাশার। তবে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বরূপে ফিরেছে ক্যারিবিয়নরা। জিম্বাবুয়েকে ৩১ রানে হারিয়ে সুপার ‍টুয়েলভের আশা জিইয়ে রেখেছে নিকোলাস পুরান শিবির।

ধবার হোবার্টে আগে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ১৫৩ রান করে উইন্ডিজ। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৮.২ ওভারে অল আউট হয় ১২২ রানে।

‘বি’ গ্রুপে চারটি দলই খেলেছে দুটি করে ম্যাচ। এক জয় ও এক হারে সব দলেরই পয়েন্ট ২। শেষ ম্যাচেই হবে ফয়সালা কোনো দুটি দল যাবে সুপার ‍টুয়েলভে। শেষ ম্যাচে উইন্ডিজ খেলবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

১৫৪ রানের টার্গেট খেলতে নেমে শুরুটা উড়ন্ত ছিল জিম্বাবুয়ের। মাধেভেরে ও চাকাভার মারমুখি ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ২৯ রান তোলে দলটি। এরপরই অবশ্য উইন্ডিজকে ব্রেক থ্রু এনে দেন আলজারি জোসেফ। ৯ বলে তিন চারে ১৩ রান করা অধিনায়ক রেগিস চাকাভাকে বোল্ড করেন তিনি।

উজ্জীবিত উইন্ডিজ এরপর চেপে ধরে প্রতিপক্ষকে। ওয়ান ডাউনে নামা টনি মুনইয়ঙ্গাকেও (২) বোল্ড করেন জোসেফ। টিকতে পারেননি শন উইলিয়ামসও। ২ বলে ১ রান করে তিনি ম্যাকয়ের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।

হোল্ডার এরপর ফেরান ওপেনার মাধেভেরেকে। ১৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৭ রান করে লুইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ৬৪ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন। ৮ বলে ১৪ রান করা নির্ভরযোগ্য ব্যাটার সিকান্দার রাজা ক্যাচ দেন পাওয়েলের হাতে। টেস্ট মেজাজে খেলা মিল্টন শুম্ভা আকিল হোসেনের শিকার।

রায়ান বার্ল ও লুক জংউই আশা জাগালেও শেষটা সুখের হয়নি জিম্বাবুয়ের। ২২ বলে ২৯ রান করা জংউই বোল্ড হন জোসেফের বলে। ১৯ বলে তিন চারে ১৭ রান করা বার্ল হোল্ডারের বলে এলবিডব্লিউর শিকার। শেষে চাতারাকে বোল্ড করে উইন্ডিজকে জয়োল্লাসে মাতান জেসন হোল্ডার। বল হাতে ৪ ওভারে ১৬ রানে চার উইকেট নেন জোসেফ। তিন উইকেট নেন জেসন হোল্ডার।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজের হয়ে শুরুটা দারুণ করেন কাইল মায়ার্স ও জনসন চার্লেস। বিপজ্জনক হওয়ার আগেই এই জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১২ বলে দুই চারে ১৩ রান করে ফেরেন মায়ার্স।

এরপর এভিন লুইসকে সাথে করে রানের চাকা বেশ সচল রাখেন চার্লস। অপর প্রান্তে লুইস ছিলেন অনেকটা ধূসর। তেড়ে মারতে গিয়ে দলীয় ৭৭ রানে সিকান্দার রাজার বলে শুম্ভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৮ বলে এক চারে ১৫ রান করা লুইস। দলীয় ৯০ রানের মাথায় উইলিয়ামসনের শিকার উইন্ডিজ ক্যাপ্টেন নিকোলাস পুরান (৯ বলে সাত রান)।

এরপর ফেরেন দারুণ ব্যাট করা চার্লসও। ফিফটির খুব কাছে গিয়েও রান আউট হন তিনি। ৩৬ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৫ রান করেন চার্লস। দলীয় রান তখন ৪ উইকেটে ৯৭।

স্কোরে কোন রান যোগ না হতেই বিদায় নেন সামরাহ ব্রুকস। কোন রান করার আগেই তিনি সিকান্দার রাজার বলে এলডব্লিউর শিকার। দলীয় স্কোর একশ অতিক্রমের পর জেসন হোল্ডার বিদায় নিলে শঙ্কায় পরে উইন্ডিজ।

তবে সেই শঙ্কা দূর করেন রভম্যান পাওয়েল ও আকিল হোসেন। অষ্টম উইকেটে এই জুটির দারুণ ব্যাটিংয়ে দেড়শ পার করে উইন্ডিজ। ২১ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ২৮ রানে পাওয়েল বিদায় নিলেও ১৮ বলে দুই চারে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন আকিল হোসেন।

বল হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে চার ওভারে ১৯ রানে তিন উইকেট নেন সিকান্দার রাজা। মুজারাবানি দুটি ও শন উইলিয়ামস নেন এক উইকেট।

সম্পর্কিত পোস্ট