মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

জার্মানি থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৬২ বাংলাদেশিকে

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২১ | ১:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২১ | ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জার্মানি থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৬২ বাংলাদেশিকে

জার্মানিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বৈধ অধিবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কল্পে ২০১৭ সালে হওয়া ইউরোপ ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্য হওয়া অধিবাসন চুক্তি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি)’ বাস্তবায়নে জার্মানি থেকে অধিবাসন প্রত্যাশী অবৈধ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে জার্মান সরকার।

জার্মানির ডুসেলড্রপ বিমানবন্দর ও বার্লিন বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার(২৬ অক্টোবর)বিশেষ ফ্লাইট এ ৬২ বাংলাদেশিকে প্রথম পর্যায়ে জার্মানি থেকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হবে। ওই বাংলাদেশিদের নির্বিঘ্ন নিরাপত্তায় ঢাকা পৌঁছে দিতে ১’শাতাধীকেরও বেশি জার্মান নিরাপত্তারক্ষী তাদের সঙ্গে থাকবেন।

অধিবাসন প্রকল্পের চুক্তিমতে ২০১৭ সাল থেকে এখন অবধি ৮’শত ১৬ জনের ভ্রমণের তথ্য ইস্যু করতে বাংলাদেশের প্রতি জার্মানি অনুরোধ জানিয়েছে জার্মান সরকার। ইতোমধ্যে অনেকেই জার্মানি ছেড়ে চলে গেছেন৷ তাই এর সংখ্যা বর্তমানে ৮ শতাধিক নেই বলে জানিয়েছেন বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন দেশ ঘুরে অসংখ্য ইউরোপে অধিবাস প্রত্যাশী বাংলাদেশিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে কয়েক দফায় মানব পাচারকারী চক্রের হাতবদলের পর কেও যেতে পারেন স্বপ্নের দেশে কিংবা কেও চলে যান পরকালে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অধিবাসন ব্যবস্থা ঠেকানো,নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মানবধীকার রক্ষায় ইউরোপ ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশ একাত্বতা পোষণ করে বৈধ অধিবাস নিশ্চিত করনের লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে।

জার্মানিতে অধিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে প্রসঙ্গে বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত বলেন, অবৈধভাবে জার্মানিতে অবস্থানরত অধিবাসন প্রত্যাশীদের দেশে ফেরত পাঠাতে আমরা চুক্তিবদ্ধ। আমরা সেই চুক্তি অনুসরণ না করলে আমাদের ওপর ভিসা কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে ইউরোপ ইউনিয়ন৷ তাই দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। জার্মানিতে অধিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে জার্মানিতে বৈধ পথে অধিবাসন নিশ্চিত সম্ভব। তাই অবৈধ পথ পরিহার করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরে বৈধ পথে অধিবাসন প্রত্যাশীদের সহায়তা করারও আশ্বাস দেন।

আন্তর্জাতিক অধিবাস বিশ্লেষকরা মনে করেন,অবৈধ অধিবাসন প্রসঙ্গে কঠোরতা আরোপের পাশাপাশি দালালদের দৈরত্ব কমাতে উন্নত দেশগুলোকে যৌথ ভূমিকা রাখতে হবে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের অবৈধ পথে অধিবাস পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসবে। এবং বৈধ অধিবাসন প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা যেতে পারেও বলে মন্তব্য করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট