বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

সবার জন্য নয় জরুরি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি। কেবল বিশেষ কিছু ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত।

জরুরি গর্ভনিরোধক সম্পর্কে জেনে নিন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
জরুরি গর্ভনিরোধক সম্পর্কে জেনে নিন

মাতৃত্বের পরম আনন্দের অনুভূতি যেকোনো নারীর জীবনেই এক আশীর্বাদ। মাতৃত্ব মানে জীবন পাল্টে যাওয়া নতুন এক জীবন। তবে মা হয়ে ওঠার প্রস্তুতি সব সময় থাকে না। তাই হয়ে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ। পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ফল অনেক সময়ই খুব সুখকর হয় না। এতে মা নিজে যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন, তেমনি সন্তানের জীবনে এবং তাঁদের পরিবারেও সৃষ্টি হতে পারে নানাবিধ সমস্য। গর্ভপাত করানোর মতো ঘটনাও দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। এত সব সমস্যা এড়াতে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারে ও পরিকল্পিত উপায়ে সন্তান ধারণের বিষয়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

জন্মনিয়ন্ত্রণের যেসব পদ্ধতি সাধারণত ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর অধিকাংশই নিয়মিত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। মাসিক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, ইঞ্জেকশন কিংবা জরায়ুতে বিভিন্ন ডিভাইস নেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গর্ভনিরোধে সাহায্য করে। জরুরি প্রয়োজনে কাজে দেয় জরুরি গর্ভনিরোধক (ইমার্জেন্সি পিল)। সহবাসের পর ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত এই পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। হরমোন ও অন্যান্য হরমোনাল নিয়ন্ত্রক ওষুধ ব্যবহৃত হয় জরুরি গর্ভনিরোধক হিসেবে। এ ছাড়া রয়েছে জরায়ুতে স্থাপন করার ডিভাইস (কপার টি)।বিজ্ঞাপন

কাদের জন্য প্রযোজ্য

সবার জন্য নয় জরুরি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি। কেবল বিশেষ কিছু ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। গর্ভনিরোধক ব্যতিরেকে সহবাস, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করতে ভুলে গেলে বা সেবনে দেরি হওয়াসহ আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, অবসন্নতা কিংবা স্তনে ব্যথা হতে পারে। যেকোনো জরুরি গর্ভনিরোধক ব্যবহারে মাসিক অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। প্রায়ই অল্প পরিমাণে রক্তপাত হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে গর্ভধারণ হতে পারে জরায়ুর নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্যত্র (যেমন ডিম্বনালিতে)।

খেয়াল রাখুন

  • জরুরি গর্ভনিরোধক কখনোই নিয়মিত গর্ভনিরোধকের বিকল্প হতে পারে না।
  • গর্ভধারণের পর এসব পদ্ধতি কাজে দেবে না।
  • খুবই অল্প কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতি গ্রহণের পরেও গর্ভধারণ হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাবে সাধারণত গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয় না। তবে জরুরি পদ্ধতি গ্রহণের পর যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • ডা. জারিন তাবসসুম, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা
সম্পর্কিত পোস্ট