বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

চাঁদা না দেওয়ায় ধর্ষণ : দাড়ি কামিয়ে আত্মগোপনে ছিলো আশিক

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ
চাঁদা না দেওয়ায় ধর্ষণ : দাড়ি কামিয়ে আত্মগোপনে ছিলো আশিক

জিজ্ঞাসাবাদে আশিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন চাঁদা না দেওয়ার কারণেই কক্সবাজারে স্বামী সন্তানকে জিম্মি করে নারী পর্যটককে ধর্ষণ করার কথা । এমন তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।

পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে ‘মুক্তিপণ আদায়’ এবং ধর্ষণসহ ১২ মামলার আসামি আশিক গ্রেপ্তার এড়াতে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, আশিক এ পর্যন্ত পাঁচবার গ্রেপ্তার হয় এবং সর্বশেষ একটি মামলায় আড়াই বছর জেল খেটেছে। কক্সবাজারে ওই নারীর সঙ্গে ঘটনার ‘দুইদিন আগে’ তার পরিচয় হয়।

গত ২২ ডিসেম্বর কক্সবাজারে এক নারী পর্যটককে ধর্ষণের ঘটনায় রোববার আশিকুল ইসলামকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এ মামলায় এপর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “আশিক কক্সবাজারে প্রায় ৩০ জনের একটি অপরাধীচক্রের নেতৃত্ব দেয়।

“এই চক্রটি নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, পর্যটক মূলত তাদের টার্গেট। তারা ওই নারী এবং তার স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। আশিকের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় ঘটনার দুইদিন আগে হয়েছিল।”

জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “আশিক জানিয়েছে চাঁদা দিতে অস্বীকার করার পরই হোটেলে নিয়ে ওই নারীকে একাই ধর্ষণ করে।”

তবে ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে আশিক ‘অবগত নন’ জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, “এসময় ওই নারীকে তার সহযোগীদের কাছে রেখে আশিক মটর সাইকেল আনতে গিয়েছিল।”

২৫ বছর বয়সী ওই নারীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে তাকে তুলে নেয়। তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ‘কয়েক দফা ধর্ষণ করে’ তিনজন।

পরে খবর পেয়ে জিয়া গেস্ট ইন নামের এক হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। পরদিন ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।

খন্দকার মঈন বলেন, “আশিকের নেতৃত্বে অপরাধীচক্রটি পর্যটকদের বিভিন্ন প্রকার ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তার ফাঁদে পা দিয়ে টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছে।”

জিজ্ঞাসাবাদের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আশিক র‍্যাবকে জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার পর ব্যাপক আলোচিত হলে দাঁড়ি গোঁফ কেটে দুইদিন পর একটি এসি বাসে ঢাকায় আসে।”

পরে আত্মগোপনের জন্য পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুর মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান খন্দকার আল মঈন।

২০১২ সাল থেকে আশিকের বিরুদ্ধে এপর্যন্ত ১২টি মামলার ‘সন্ধান মিলেছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, জবরদখল, ডাকাতি, ছিনতাই এবং ধর্ষণের একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ একটি মামলায় আশিক আড়াই বছর জেল খেটেছে।”

আশিক তার চক্রকে নিয়ে কক্সবাজারের সুগন্ধা এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পর্যটকদের কাছে ভাড়া দিত এবং তাদের ‘সুযোগ বুঝে ফাঁদে ফেলত’ বলে র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

“ভয়ভীতি দেখিয়ে কম দামে ফ্ল্যাট, এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিত এবং দ্বিগুণ কোনো ক্ষেত্রে তিনগুণ দামে ভাড়া দিত। নিরীহ মালিকরা তার ভয়ে কোনো কথা বলার সাহস পেত না।”

সম্পর্কিত পোস্ট