শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

গ্রিস যাওয়ার পথে সিলেটের ইমরানের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩:১২ অপরাহ্ণ
গ্রিস যাওয়ার পথে সিলেটের ইমরানের মৃত্যু

তুরস্ক থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে অতিরিক্ত গরমের কারণে ‘হিট স্ট্রোক’ করে ইমরান আহমেদ চৌধুরী নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
ইমরান আহমদ চৌধুরী গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দক্ষিণবাঘা গ্রামের মৃত ইকবাল আহমদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রেইনবো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জাস্ট অর্ডারের পরিচালক ছিলেন।
জানা গেছে, উন্নত জীবনযাপনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ২ বছর আগে দেশ ছাড়েন ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ চৌধুরী। প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে পরে অবৈধভাবে সাগর পথে পাড়ি জমান ইরানে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে চলে যান তুরস্ক। গত ১৮ জুলাই তুরস্ক থেকে গ্রিসের পথে পাড়ি জমান। এরপর থেকেই কোন খোঁজ মিলছিল না তার।
অবশেষে জানা যায়, গ্রিসের দক্ষিণে মেসিডোনিয়ার কাছাকাছি শহর আলেকজান্দ্রোপলি এভ্র এলাকার হাই -ওয়ের কাছাকাছি একটি রাস্তা দিয়ে তুর্কি থেকে পায়ে হেঁটে গ্রিসে প্রবেশকালে অতিরিক্ত গরমের কারণে ‘হিট স্ট্রোক’ করে ইমরান। মৃত্যুকালীন সময় তার সাথে কোন পরিচয় পত্র না থাকায় গ্রিক পুলিশ অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তার মৃতদেহ মর্গে রেখে দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই মাসেরও বেশি সময় তার পরিবার খোঁজ না পেয়ে পাসপোর্ট ও ছবি পাঠায় গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাসে। দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজার এক পর্যায়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ইমরান চৌধুরীর লাশ গত শুক্রবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) এথেন্স-এ এসে পৌঁছায়।

গ্রিস বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা শাহনুর রিপন জানান, পাসপোর্টের ঠিকানা অনুসারে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ইমরান নামের যুবকের মরদেহ গ্রিসের সীমান্তবর্তী শহর আলেকজান্দ্রোপলি মর্গে রয়েছে। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিস ও সিলেট জেলা সংগঠন ইন গ্রিসের সার্বিক সহযোগীতায় তার মৃত দেহ দেশে পাঠাতে প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রিস দূতাবাস সবসময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতার জন্য সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে।

সম্পর্কিত পোস্ট