মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

কুমিল্লার ঘটনার জেরে সারাদেশে ২৮ মামলা, আসামী সাড়ে ৯ হাজার

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লার ঘটনার জেরে সারাদেশে ২৮ মামলা, আসামী সাড়ে ৯ হাজার

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার থেকে দেশের ১০ টি জেলায় আলাদা আলাদা হয়েছে ২৮টি মামলা। যাতে এজহারভুক্ত আসামীর সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। সারাদেশে পূজামণ্ডপ, মন্দিরসহ হিন্দুদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা সেসব মামলায় এ পর্যন্ত ২২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

শনিবার (১৬ অক্টোবর) ফেনী শহরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করে। একটি মামলায় ২০০-২৫০ জন এবং অপর মামলায় ১০০-১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন জানান, পৃথক দুটি মামলায় প্রায় ৪০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মন্দির ও বসতঘরে দুই দিন ধরে চলা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ছয়টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জনকে। আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতার অনুসারী ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের নাম রয়েছে। একাধিক মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, হামলাকারী হিসেবে তাঁরা যাঁদের নাম দিয়েছেন, তাঁদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দেওয়া নামই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গত বুধবার রাতে বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২ হাজার ৯৫০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ বুধবার রাতে সাতজন ও শনিবার রাতে আটজনকে গ্রেপ্তার দেখায়।

কুমিল্লা নগরে উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে অগ্নিসংযোগ, হামলা, ভাঙচুর এবং ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ চারটি ও র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এসব মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জামায়াতের ৩ কাউন্সিলরসহ এজাহারনামীয় ৬২ জন ও অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন ৫০০ জন। এর মধ্যে পুলিশ ৩৯ জনকে ও র‌্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় পূজামণ্ডপে হামলা ও তোরণ ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির জাফর সাদেক, সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে। এসব মামলায় গতকাল পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত ও আসামি করা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।

সিলেট নগরের দুটি পূজামণ্ডপে গত শুক্রবার দুপুরে হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ শনিবার দিবাগত রাতে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার বাদী জালালাবাদ থানার এসআই কাজী জামাল।

সিলেটের জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ বাজারে বুধবার রাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছিল। পুলিশ তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় গতকাল ভোরে কালীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিনটি মন্দিরে ভাঙচুর ও দুটি মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়। হামলায় আরও তিনটি মন্দির আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট