মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

কানাডায় জমে উঠেছে রমজানের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২২ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২২ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
কানাডায় জমে উঠেছে রমজানের প্রস্তুতি

আগামী শনিবার কানাডায় শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। বহু সংস্কৃতির এ দেশটিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক মুসলমানও রয়েছে।

কানাডায় গত দুই বছরের তুলনায় এবার রমজানের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। আলবার্টায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ও সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের ওপর বাধ্যতামূলক শিথিল করায় পুরো আলবার্টা যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। শুধু আলবার্টা নয়, এ চিত্র এখন পুরো কানাডার।

এছাড়া মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপসানালয়গুলোতে প্রচুর সংখ্যক লোকের সমাগম ঘটেছে। দীর্ঘদিনের না দেখে থাকার বিরতি বিচ্যুতি ঘটাতে পারেনি পারস্পরিক সম্পর্কের। একে অপরের সান্নিধ্যে এগিয়ে আসছে বিনিময় করছেন কুশলাদি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটেছে মসজিদে। মুসুল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। মসজিদ গেটের সামনে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে পসরা সাজিয়ে বসেছে আতর আর জায়নামাজের দোকানগুলো। মাসব্যাপী রোজা রাখার সময়সূচি সংবলিত রমজানের ক্যালেন্ডারও অনেকের হাতে।

অন্যদিকে ক্যালগেরির গ্রোসারির দোকানগুলোতে প্রবেশ পথেই রমজানের প্রস্তুতি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের খাবার, জুস, ছোলা বেসনসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন খাবার সমৃদ্ধি প্রস্তুতি দেখা গেছে। রমজান মাসের আগমন দোকানে প্রবেশ করলেই তা সহজেই অনুমেয়।

কানাডার স্থানীয় বড় বড় স্টোর ও বিভিন্ন দেশের স্টোরগুলোতেও রমজানকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে বড় করে মাহে রমজান সংবলিত পোস্টার লেখা রয়েছে যা ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে।

অন্যদিকে প্রবাসী বাঙালিরা ছুটির দিনসহ কর্মময় দিনগুলোতেও পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছে রমজানের বিশেষ আইটেমগুলো কিনতে। প্রবাসী বাঙালিদের মালিকানায় গ্রোসারিগুলো যেন দেশের মতোই বাংলাদেশি পণ্য দিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে।

বরফাচ্ছন্ন কানাডার প্রায় ৮ মাসই বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এ বছর ও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কখনো কখনো প্রচন্ড বৈরি আবহাওয়ার কানাডা, ম্লান করতে পারেনি, প্রবাসী বাঙালিদের রমজানের প্রস্তুতি।

পবিত্র রমজান মাসে বাংলাদেশের মতো এখানেও বাঙালিরা ছোলা মুড়ি মেখে মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। ইফতারের আয়োজনে থাকে পেঁয়াজি, কলা, আলুর চপ, জিলাপি, খেজুর, চিকেন হালিম আর শরবত। বিশেষ খাবার হিসেবে কমলা, আঙুর, আপেলসহ নানা দেশের বৈচিত্রময় ফল। বাংলাদেশি হোটেলগুলোতেও ইফতারিসহ খিচুড়ি ও বিরিয়ানির বেচাকেনা চলে জমজমাটভাবে।

প্রবাসী মুসলিম বাঙালিরা কানাডায় থাকলেও ভুলে যায়নি তাদের ধর্মীয় রীতি নীতির কথা। তার প্রতিফলন ঘটে তারাবির নামাজের সময় যখন ছোট ছোট শিশু-কিশোররা অভিভাবকদের সঙ্গে মসজিদে আসে। স্বাস্থ্যবিধির শিথিলতার কারণে এই বছর নতুন করে জেগে উঠবে মুসল্লিদের তারাবির নামাজ।

গত দুই বছর কোভিড-১৯ এর কারণে গৃহবন্দি আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মসজিদের রূপ ভিন্ন আকার ধারণ করেছিল। দূরত্ব বজায় রাখা আর সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ মানতে গিয়ে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল ধর্মীয় রীতিনীতি। কিন্তু এ বছর তার পুনরাবৃত্তি আর হচ্ছে না।

এ বছর মুসুল্লিরা সবাই মসজিদে বসে একত্রে ইফতারি করবেন এজন্য আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বন্ধু-বান্ধবদের সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন। মসজিদ কমিটির অনেকেই ইফতারির জন্য অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রবাস জীবনের যান্ত্রিকতাময় দিনগুলোতে ইফতার আর তারাবি নামাজ শেষে প্রবাসী বাঙালিরা আবার মিলিত হবে একে অপরের সঙ্গে। পুরো পরিবেশ পরিণত হবে এক ভিন্ন আমেজের। ক্যালগেরির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এশিয়ান এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশে সবাই যখন মসজিদে মিলিত হয়, তখন মনে হয় যেন একখণ্ড বাংলাদেশ।

এরোমা ইন্টারন্যাশনালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আতিকুল ইসলাম কলিন্স জানান, মসজিদে গত দুই বছর যাবৎ আমরা বাংলাদেশের আমেজে ইফতারি ও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারিনি। এই অবস্থা থেকে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র রমজান মাসে সারা বিশ্বের উম্মাহর যেন হেফাজত দান করেন ও আগের মতো রমজান পালন করার তৌফিক দান করেন।

ক্যালগেরির বাংলা বাজার সুপারমার্কেট ও হাবীবি শর্মা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী সালেকুর রহমান সিদ্দিকী (রাজন) জানান, বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে আমরা পণ্য সরবরাহ করেছি, এখানে ইফতার আইটেমসহ সবধরনের পণ্য পাওয়া যাবে। আসছে রমজান মাসে ক্রেতা সাধারণের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি কম্পিটিটিভ প্রাইসের প্রতি যাতে করে সবাই সুন্দর ভাবে পবিত্র রমজান মাস পালন করতে পারি। আপনাদের সেবায় আমরা নিয়োজিত।

উৎসব সুইটস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. ফিরোজ ইফতেখার বলেন, আসছে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে উৎসব সুইটস ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আমাদের রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশের স্টাইলে শাহী হালিম, শাহী জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ছোলা ও অন্যান্য আইটেমসহ বাহারী রকমের ফল ও শরবতের ব্যবস্থা রাখবো।

ক্যালগেরি প্রবাসী মো. মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা কঠিন এক সময় অতিবাহিত করেছি। অনেকেই এরই মধ্যেই তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন। আসছে পবিত্র রমজান মাসে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে আবার পরিবার পরিজন নিয়ে ইফতার ও নামাজ আদায় করতে পারি- মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এটাই আমাদের প্রার্থনা।

আসছে সিয়াম সাধনার মাসে সংযম আর আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে যাবতীয় ভোগ-বিলাস, অন্যায়, অপরাধ, হিংসা, বিদ্বেষ, সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে বয়ে নিয়ে আসবে শান্তির বার্তা কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের এমনটাই প্রত্যাশা।

সংলাপ-৩১/০৩/০১০/আ/আ

সম্পর্কিত পোস্ট