শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

কক্সবাজারে চলছে শুঁটকি উৎপাদনের মহোৎসব

প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজারে চলছে শুঁটকি উৎপাদনের মহোৎসব

প্রকৃতিতে এখন শীতকাল। এ সময় বৃষ্টিপাত কম হয়, সাগর থেকে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মাছ। আর এই মাছকে ঘিরে কক্সবাজারে গড়ে উঠছে শুঁটকি তৈরির মহাযজ্ঞ। উপকূলে এখন শুঁটকি মাছ উৎপাদনের ধুম পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের ১৫৭ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে।

জানা গেছে, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বেশির ভাগ শুঁটকি ট্রাকে বোঝাই করে সরবরাহ হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। সেখান থেকে সরবরাহ হচ্ছে তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর জেলা থেকে ৪০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা করছেন উৎপাদনকারীরা।

কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লি। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে মহাল (শুঁটকি উৎপাদনের খামার) আছে প্রায় ৭০০টি। জেলার টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপেও শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে জেলার ৯ শতাধিক মহালে দৈনিক উৎপাদিত হচ্ছে ১৫৭ মেট্রিক টনের বেশি শুঁটকি।

সরজমিনে নাজিরারটেক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,
শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন শুঁটকি তৈরিতে। কেউ মাছ কাটছেন, কেউবা আবার শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত। কারও কাজ আবার শুঁটকি সংরক্ষণ।

পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া, মোস্তাকপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, বাসিন্যাপাড়া, নুনিয়াছটা, সিসিডিবিমোড়, পানিকুপ পাড়াসহ অন্তত ১৮টি এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৭০০টি মহালে শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে।

কায়সার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মহালের মালিক মো. কায়সার (৪৫) বলেন, সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহালগুলোতে কাজ চলে। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণে আসা বিপুলসংখ্যক পর্যটক বাড়ি ফেরার সময় কয়েক কেজি করে শুঁটকি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে শুঁটকির চাহিদাও বেশি।

নাজিরটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আতিক উল্লাহ বলেন, মহালে উৎপাদিত শুঁটকি ব্যবসায়ীরা কিনে এনে প্রথমে গুদামে মজুত করে রাখেন। তারপর প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার শুঁটকি ট্রাকবোঝাই করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়।

পৌরসভার সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহীন আক্তার পাখি বলেন, ১৮টি গ্রামে গড়ে ওঠা ৭০০টি শুঁটকি মহালে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার নারী আছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আবিদ আহসান বলেন, ভ্রমণে আসা পর্যটকসহ দেশের মানুষকে বিষমুক্ত শুঁটকি সরবরাহ করতে কাজ চলছে। গত বছর কক্সবাজারে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছিল। পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার শুঁটকির উৎপাদন ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি যেতে পারে।

আইআই

সম্পর্কিত পোস্ট