শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের উত্তেজনা নিরসনে কাজ করছে কাতার

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১:১৪ অপরাহ্ণ
ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের উত্তেজনা নিরসনে কাজ করছে কাতার

আল-আকসা মসজিদে সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে, তা নিরসনে মধ্যস্থতার কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাতার সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলছে। আজ (শনিবার) দুপুরে দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হয়েছে।’

গত বুধবার, ৫ জানুয়ারি আল আকসা মসজিদের চত্বরে কয়েকশ ফিলিস্তিনি মুসল্লির সঙ্গে সংঘাত হয় ইসরায়েলি পুলিশের। সেই সংঘাতের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের ইফরাত শহর এবং ইসরায়েলের বৃহত্তম শহর তেল আবিবে বন্দুক ও গাড়ি হামলায় নিহত হন তিন বিদেশি পর্যটক।

তারপর ওই দিনই সন্ধ্যার পর ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সমাবেশের ডাক দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

গত বুধবার, ১৩ রমজান ছিল ইহুদিদের পবিত্র পাসওভার দিবস। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে এই দিনে আল আকসা মসজিদ চত্ত্বরে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী ছাগল জবাই করা হতো।

মঙ্গলবার অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড শাসনকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস ইহুদি চরমপন্থীদের হাত থেকে আল আকসাকে রক্ষার আহ্বান জানায়। কারণ এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে —ইহুদি চরমপন্থীরা পাসওভার দিবস উপলক্ষে বিরোধপূর্ণ ওই এলাকায় ছাগল জবাই করতে পারে।

এর পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলো লক্ষ্য করে গাযা থেকে ৯টি রকেট ছোড়া হয়। জবাবে গাযায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এদিকে, পাসওভার দিবস উপলক্ষ্যে ইহুদি চরমপন্থীদের সম্ভাব্য ছাগল জবাই প্রতিহত করতে মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের পর কয়েক শ’ মুসল্লি মসজিদের সামনে ব্যরিকেড তৈরি করে অবস্থান নেন।

সেই রাতেই আল আকসা চত্বরে এসে পৌঁছায় ইসরায়েলি পুলিশ এবং কয়ে ঘণ্টা ধরে মুসল্লিদের মসজিদ চত্বর থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।

সাধারণ মুসল্লিরা যেন ফজরের নামাজ পড়তে পারে এবং মসজিদ চত্বরে যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে— নিশ্চিত করতে ভোরের দিকে কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে পুলিশ। তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অবস্থান নেওয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

কাতার অবশ্য আল আকসা চত্বরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘আল আকসা চত্বরে পুলিশ যা করেছে— তা নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলক তৎপরতা ছিল বলে মনে করছি আমরা। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতেও কাতারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।’

সম্পর্কিত পোস্ট