শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

আরব আমিরাতে জনপ্রিয় সংবাধমাধ্যম সময়ের সংলাপের বর্ষপূর্তিতে ‘লালজমিন’

প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৩ | ১২:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ৯ জুন ২০২৩ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ
আরব আমিরাতে জনপ্রিয় সংবাধমাধ্যম সময়ের সংলাপের বর্ষপূর্তিতে ‘লালজমিন’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলা ভাষা-ভাষীদের জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম সময়ের সংলাপের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ উপলক্ষ্যে শনিবার (১০ জুন) আমিরাতের শারজায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে তরুণ প্রতিভাবান সুদীপ চক্রবর্তী নির্দেশনায় মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনীত নাটক ‘লালজমিন’। শারজাহ‘র বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম বাংলাদেশ সমিতিতে এদিন রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে এই নাটক।

জানা গেছে, ‘লালজমিন’ নাটকটির গল্প মুক্তিযুদ্ধের একটি খণ্ডচিত্রের বয়ান। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন কিশোরীর অংশগ্রহণ, গল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ভয়াবহতা, মেয়েটির ত্যাগ- সবশেষে স্বাধীনতা অর্জন দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় ‘লালজমিন’।

‘লালজমিন’ কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ। ‘লালজমিন’ নাটকের গল্প তেরো পেরিয়ে চৌদ্দ বছর ছুঁই ছুঁই এক কিশোরী কন্যার। কিশোরীর দু’চোখ জুড়ে মানিক বিলের আটক লাল পদ্মের জন্য প্রেম। সে কৈশোরেই শোনে বাবা-মায়ের মধ্যরাতের গুঞ্জন। শুধু দুটি শব্দ কিশোরীর মস্তকে আর মনে জেগে রয়, মুক্তি-স্বাধীনতা। ওই বয়সে কিশোরী এক ছায়ার কাছ থেকে প্রেম পায়। বাবা যুদ্ধে চলে যায়।

অগোচরে কিশোরী নানা কৌশলে যুদ্ধে যাওয়ার আয়োজন করে, সশস্ত্র যুদ্ধ। কিন্তু বয়স তাকে অনুমোদন দেয় না। এক পর্যায়ে কিশোরীর সেই ছায়া প্রেম সম্মুখে দাঁড়ায়। সে তার সেনাপতিকে চিনতে পারে। তারপর যুদ্ধযাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহীদ হোন, কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ যুবতীসহ যুদ্ধযাত্রী এই কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদাজমিন যুদ্ধকালীন নয় মাসে রক্তরাঙা হয়ে ওঠে।

‘লালজমিন’ কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ। দেশের বরেণ্য নাট্যাভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর প্রাণবন্ত অভিনয় নাটকটি নিমিষেই দর্শকদের আকৃষ্ট করে। চরিত্রানুযায়ী কণ্ঠের সূক্ষ্ম কাজ যেমন দেখিয়েছেন তেমনি নাচ এবং কোরিওগ্রাফিতে নিজেকে মিলিয়ে দিয়েছেন গল্পের বুনুনিতে। নাটকের পোশাক সেট আলো সবই যেন মোমেনা চৌধুরীকে নিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ে। মঞ্চে মোমেনা চৌধুরী যেন হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটম-লে ২০১১ সালের ১৯ মে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা ‘লালজমিন’ নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়। পরে দেশ বিদেশের বভিন্ন স্থানে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। এবার নাটকটি দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশিদের। 

এ বিষয়ে সময়ের সংলাপের সম্পাদক শিবলী আল সাদিক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছি। প্রবাসীদের বিভিন্ন অর্জন, সংকট এবং সমস্যা আমরা সবার সামনে উপস্থাপন করে এসছি। আমরা সব সময় পাঠক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন পেয়েছি। আগামী শনিবার আমাদের প্রতিষ্ঠানটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আমরা চেয়েছি ভিন্নধর্মী কোন আয়োজন রাখতে। আার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘লালজমিন’ প্রদর্শিত করতে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে থিয়েটারের ইতিহাসে একক অভিনীত কোনো নাটকের তিন শতাধিক মঞ্চায়ন এটাই প্রথম। দেশে এবং দেশের বাইরে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, কোরিয়া ও ভারতসহ বেশ কিছু দেশে নাটকটির প্রদর্শনী হয়েছে। আমরা আশা করছি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এটির সফল প্রদর্শনী হবে। দর্শকরা এই নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেই গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্র নতুন করে দেখতে পারবেন। আমরা সকলকে এই আয়োজনে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। 

সম্পর্কিত পোস্ট