রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আমিরাতে কাগতিয়ার গাউছুল আজমের সালানা ওরছে মুসল্লিদের ঢল

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২২ | ৭:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২২ | ৭:১১ অপরাহ্ণ
আমিরাতে কাগতিয়ার গাউছুল আজমের সালানা ওরছে মুসল্লিদের ঢল

বিশ্বজোড়া তরিক্বতের সোনালী সোপান হজরত গাউছুল আজম এর তরিক্বত, এ তরিক্বতের রাহবার, যুগের গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন বর্তমান বিশ্বের যুগ শ্রেষ্ঠ কালজয়ী মনিষী ও যুগের শ্রেষ্ঠ গাউছুল আজম এবং খলিফায়ে রাসুল (দ.)। আলা ইন্না আউলিয়া আল্লাহি লা খাউফুন আলাইহি ওয়া-লা হুম ইয়াহযানুন। কোরআনুল করিমের এ আয়াত উল্লেখ করে বলেন নিশ্চয় আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নাই, পেরেশানি নাই এবং তারা দুঃখিত বা দুশ্চিন্তিত হবে না।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) আমিরাতের আজমান ইন্টারন্যাশনাল উইনার্স ক্লাবে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখাসমূহের উদ্যোগে সালানা ওরছে হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও ফাতেমায়ে ছানি, জামানার রাবেয়া বসরী রুহানী আম্মাজান রাহমতুল্লাহি আলাইহার বার্ষিক ফাতেহা শরীফ উপলক্ষে বিশাল মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন চট্টগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ, আওলাদে রাসূল (দ.) হজরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব।

এ সময় তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। অনেক ভালোবেসে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দান করেছেন। সব সৃষ্টির মূল ও মধ্যমণি আল্লাহর হাবীব (দ.) উনার দেখানো পথে ও মতেই রয়েছে সিরাতুল মোস্তাকিমের সত্যিকারের পাথেয়। নবীজিকে মুহাব্বতের সাথে ধারণ করা ও নবীজির সুন্নাহকে অনুসরণ করার মধ্যেই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। যুগে যুগে যারা আল্লাহর প্রিয় হয়েছেন সবাই নবীজিকে হৃদয়ে রেখে জীবন পথে চলেছেন। সেই অনুপাতে সবাই সম্মান, মর্যাদা ও নিয়ামত লাভ করেছেন। শেষ যুগে এসে বাংলার বুকে আমরা এমন এক কালজয়ী নবীর প্রেমিককে পেয়েছি যিনি নবীজিকে এমনভাবে ধারণ করেছেন এবং নবীজির সুন্নতকে জীবনে এমনভাবে অলঙ্কৃত করেছেন স্বয়ং নবী (দ.) উনাকে রওজা পাকে ডেকে নিয়ে সরাসরি অলৌকিকভাবে বায়াত করিয়ে খলিফায়ে রাসুল এর মর্যাদা দান করেছেন।

তিনি বলেন, কাগতিয়ার নিভৃত পল্লি থেকে যে তরিক্বতের সূচনা হয়েছিল তা আজ বিশ্বময় বিস্তৃত। এ যেন খলিলুল্লাহর অশ্রুসজল ফরিয়াদ। সারা জীবন উনি দোয়া করতেন আমার তরিক্বতকে আরব থেকে আজমে জীন থেকে ইনসানের মধ্যে পৌঁছে দাও। উনার দোয়ার বরকতে এ তরিক্বত আজ বাংলার জমিন থেকে জজিরাতুল আরব হয়ে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির নসিহতে নয়, কোনো মানুষের কলাকৌশলেও নয় এই তরিক্বতের প্রসার ঘটেছে আল্লাহ ও রাসুল (দ.) এর অনুগ্রহে, খলিলুল্লাহর এখলাসের বদৌলতে এবং উনার দস্তগীরির উসিলায়। লাখ লাখ যুবককে নফসানিয়তের ভয়াল থাবা থেকে ফিরিয়ে খুলুছিয়তের শিক্ষা দিয়ে ইনসানিয়তের পথে যিনি নিয়ে এসেছেন উনিই খলিলুল্লাহ্, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসুল হজরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)।

নারীরা ঘরে বসে পর্দা প্রথার বিঘ্ন না ঘটিয়ে তরিক্বতের কাজ করতে পারছে এবং নবীর নূরে পাক ক্বলবে তা অনুধাবন করতে পারছে, বিশ্বায়নের বিশ্বে এর চেয়ে বড় কারামতের নজির আর কি হতে পারে?

উনার সংস্পর্শে ও সংশ্রবে, স্মরণে ও অনুভবে অশান্ত মন হয় প্রশান্ত, অস্থির জীবন হয় স্থির, অপূর্ণ জীবন হয় পূর্ণ, উনার তাওয়াজ্জুহতে মঞ্জিলে মকছুদের পথে মানুষের যাত্রা শুরু হয় নবীপ্রেমকে হৃদয়ে নিয়ে, এই তরিক্বতে তাই দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি প্রাপ্তি ও পূর্ণতা।

পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভাগ্য ও জীবনমানের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলো করোনায় ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার করছে, সেখানে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন পেয়েছে অধিকাংশ মানুষ। এসব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী কাগতিয়া দরবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাণী প্রদান করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নযগ্গের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এর আগে হুজুর কেবলাকে এক নজর দেখতে ও উনার নুরানী তকরির মোবারক শুনতে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই সহ সাতটি প্রদেশ থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল উইনার্স ক্লাব রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ক্লাবের বিশাল এরিয়াজুড়ে মাহফিলস্থলে কোথাও ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই।

প্রধান অতিথি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আমিরাতের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এই মাহফিল করার সুযোগ করে দেওয়ায় দুবাইসহ আমিরাতের সাতটি প্রদেশের শাসকদের ধন্যবাদ প্রদান ও তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দুবাই কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মুহাম্মদ হারুন এম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বোগদাদী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ নুরুল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম-সহ আমিরাতের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতারা।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের দোহা ও সালতানাত অব ওমান শাখাগুলোর তরিক্বত পন্থিরা আমিরাতে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে লাইভে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

প্রবাসীদের বিশেষ অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে এসে বিশ্ব মুসলিমকে ধন্য করায় প্রধান অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমিরাত প্রবাসীরা। ধর্মীয় এ বৃহৎ জমায়েত আমিরাতে বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত আমিরাতের কমিউনিটি নেতারা।

মাহফিল শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও উপস্থিত সবার ইহকালীন কল্যাণ, পরকালীন মুক্তি এবং কাগতিয়ার গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

সংলাপ-২৯/০৩/০০৭/আ/আ

সম্পর্কিত পোস্ট